বিএনপি গুলি করে হত্যা করেছিল, আ. লীগ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আন্দোলন দমাতে শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করেছে আর আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। আজ রোববার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে ভোজ্য তেলের দাম ইউরোপে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, খাদ্য পণ্যের দাম ৪০ শতাংশ-অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়েছে, যুক্তরাজ্যে খাদ্য পণ্যের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, সুপার মার্কেটে নানা ধরনের খাদ্য পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে; সেখানে আমাদের দেশে সেটি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেকে বক্তৃতা করেন কিন্তু বিশ্ব প্রেক্ষাপটের দিকে তাকান না। এত বিশ্ব সংকটের মধ্যেও আমাদের দেশে জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন আছে। আজকে শ্রীলঙ্কা-ভারত-পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখুন। পাকিস্তানে শহরাঞ্চলে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, গ্রামে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশ কোথায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগের কারণে।

আজ মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, মজুরি ৮ গুণ বৃদ্ধি করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে শ্রমিকরা যখন তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করেছে, তাদের বিভিন্ন সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটি হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য—বলেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়, তখন তিনি যাতে ভারত থেকে দেশে না আসেন সে জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা জিয়াউর রহমান সাহেব করেছিলেন। তখন নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে কিন্তু শেখ হাসিনার ধমনীতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশে আসবেন। তার এই দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রেসারের কারণে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন দেশে আসে তখন বিমানবন্দরে যাতে লোক সমাগম না হয় সে জন্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। দেশে আসার পর তিনি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে একটি মিলাদ পড়াতে চেয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান সেই মিলাদ পড়ানোর অনুমতি দেননি। অনুমতি না দেওয়ায় ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট শহীদদের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ পড়াতে হয়েছিল। এই হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও বিএনপি, বলেন তিনি।