বিচার ব্যবস্থাকে সরকার পুরোপুরি দলীয়করণ করে ফেলেছে: মির্জা ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সরকার পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে, প্রশাসনকে ধ্বংস করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে। এখানে এখন ন্যায় বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব।'

'পুরোনো আইনজীবীরা বলছেন যে, এটা কখনই কাম্য হতে পারে না। এটা কখনো বিচার ব্যবস্থাকে সম্মানজনক অবস্থায় নেবে না। মানুষের যে আস্থা আছে বিচার ব্যবস্থার ওপরে, সেই আস্থাকে ধ্বংস করে দেবে, সেটাই দিয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আজকে আর কোনো বিচারক সাহস পাবেন না যে, সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জনগণকে ন্যায়ের পক্ষে কোন রায় প্রদান করার। যেটা সরকার চাইবে না সেই রায় দেওয়া তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াবে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে সংকটটা অত্যন্ত গভীর। এই সংকটটা আমাদের অস্তিত্বের। যেটা ৭ নভেম্বরে ১৯৭৫ সালের পূর্বে ছিল সেই সংকট আজকে এখানে দেখা দিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে, আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমাদের যা কিছু অর্জন ছিল আমরা সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি।'

'এই যে ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট একটা সরকার আমাদের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে আমাদের সমস্ত অর্জনগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের সমস্ত মানুষকে নিয়ে, সকল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে, সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের এই ভয়াবহ সরকারকে পরাজিত করতে হবে এবং এখানে সত্যিকার অর্থেই আইনের শাসন, একটা মুক্ত অর্থনীতি, একটা মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা এবং জনগণ যে ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়, সেই রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।'

তিনি বলেন, 'আমাদের সমস্ত ভালো জিনিসগুলো, শুভ জিনিসগুলো, সুন্দর জিনিসগুলো এই সরকার ধ্বংস করে ফেলেছে। আজকে দেখুন কোথাও নিরাপত্তা নেই।'

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।