‘বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকার ওসমানী, জিয়া, তাজউদ্দিনের নাম উচ্চারণ করেনি’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'সরকার বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছে, কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের কোথাও তারা জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নাম উচ্চারণ করেনি, জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেনি, তাজউদ্দিন আহমদের নাম উচ্চারণ করেনি।'
আজ শনিবার বিকেলে সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে বিএনপির সমাবেশে তিনি এ কথা বলেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'স্বাধীনতাবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিতে চায়, তারা নতুন প্রজন্মের সামনে একটা ভ্রান্ত-মিথ্যা ইতিহাস তুলে ধরছে।'
তিনি বলেন, 'আমার স্বপ্ন ছিল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখব, মুক্ত বাংলাদেশ দেখব, আমার কথাগুলো বলতে পারব, যারা লিখতে চায় লিখতে পারবে, দারিদ্র্য দুর হবে, অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।'
'খালেদা জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ভালো চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা দেশের বাইরে যেতে বলছেন, তাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর চেয়ে বড় বেদনার কী থাকতে পারে?'
'ফুটপাথে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, কমেনি। দরিদ্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কিছু মানুষ বড়লোক হচ্ছে যারা সরকারের মদদপুষ্ট,' যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, 'সরকার বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নল দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। করোনার সময় দেখলাম অসহায়ভাবে মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে, ভ্যাকসিন নিয়ে তেলেসমাতি। আর এখন দেখছি চতুর্দিকে দুর্নীতি।'
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, '২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন ৭০ টাকা চাল। লবণ, তেল, আটা, পেয়াজ সবকিছুর দাম ১০ গুণ ১২ গুণ বেড়ে গেছে।'
'তাদের (আওয়ামী লীগের) ক্ষতি হয় না। বেগমপাড়ায় বাড়ি তৈরি হচ্ছে, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হচ্ছে,' যোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'বিশ্বের সামনে কত লজ্জিত হয়েছি যে র্যাবের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা কোনোদিন আমেরিকায় ঢুকতে পারবে না। কারণ তারা বেআইনিভাবে মানুষ হত্যা করছে। আমরা ১০ বছর ধরে এই কথা বলে আসছি। খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন যে অন্যায় হচ্ছে, অবিচার হচ্ছে।'
'আমরা মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না এই দেশে। ৫০ বছর পর বলতে হচ্ছে আমরা কি স্বাধীনতা পেয়েছি আসলে? আমরা কি সন্তানদের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য আবাস তৈরি করত পেরেছি?' প্রশ্ন করেন তিনি।
'পারিনি কারণ এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ভণ্ডুল করে দিয়েছে, অর্থনীতি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায়ভাবে দমন করে পিষে রাখছে,' বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'নির্বাচন দিতে হলে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিতে হবে। তখন নির্বাচন হবে। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একাত্তরে যুদ্ধের সময় যেন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, সব রাজনৈতিক দল এক হয়েছিল, তেমনিভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।'