‘মানুষের জীবনকে জিম্মি করে তারা টিকা নিয়ে ব্যবসা করছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

করোনা মোকাবিলায় সরকারের টিকাদান কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, টিকা নিয়ে যে তেলেসমাতি কাণ্ড তারা করেছে, এর কারণ হলো চুরি করা। তারা টিকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে। টিকা নিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। মানুষের জীবনকে জিম্মি করে তারা টিকা নিয়ে ব্যবসা করছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে করোনা হেলপ সেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, টিকার দাম বলে না। কত দিয়ে টিকা কিনছে তা তারা বলে না। আজকে যে টিকা তিন ডলারে পাওয়া যায়, সেই টিকা তারা কিনছে ১০ ডলারে। গণটিকার কথা বলে তারা গণসংক্রমণ বাড়িয়েছে। টিকা ঠিক মতো দিতে পারেনি। টিকা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ধরা পড়েছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা চীন থেকে টিকা আনছেন, তাদের সঙ্গে চুক্তি করছেন। অথচ চীন অনেক আগেই এসেছিল ২০২০ সালে— আমার সঙ্গে চুক্তি করো আমি তোমাদের টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা করে দেবো। তখন আপনারা সেটা করেননি। এখন যখন ভারতের কাছ থেকে টিকা আনতে ব্যর্থ হয়েছেন, তখন আপনারা চীনকে বলছেন। আমাদের কথাগুলো পরিষ্কার। যেখান থেকেই আনেন, টিকা হতে হবে মানসম্পন্ন। সেই টিকা যেন কাজ করে। আপনারা মানুষকে এক কথা বলবেন, কাজ করবেন আরেক রকম, এগুলো প্রতারণার পরিচয়।

ফখরুল বলেন, আমরা একটি অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করছি। একদিকে করোনা মহামারি— সমগ্র বিশ্বে যেভাবে গ্রাস করছে, সংক্রমণ করছে। বাংলাদেশে ঠিক একইভাবে আজকে আমাদের এখানে একটা মহামারি দেখা দিয়েছে। আমাদের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে এমন একটি সরকার প্রায় এক যুগ ধরে আমাদের ওপর দিয়ে অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নের স্টিম রোলার চালাচ্ছে।

গোটা জাতি আজকে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কথা বললেই বলে কেন সমালোচনা করছি। সরকারের দোষ-ত্রুটি দেখিয়ে দেওয়া বিরোধী দলের দায়িত্ব। আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে। আপনারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এই করোনা মোকাবিলা করতে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, মিথ্যা কথা বলছেন। গত বছর যখন করোনা শুরু হয়, টেস্ট ছাড়াই আপনারা কাজ শুরু করলেন। টেস্ট করতে পারেন না কারণ আপনাদের কাছে সেই ব্যবস্থা নেই। সেই সময় বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় চার কোটি মানুষের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আপনারা কী বললেন, বিএনপি নাকি নাই! বিএনপি একমাত্র দল, যে দল ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে সে সময়— বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পত্রিকা খুলে দেখেন দিনাজপুরে তিন জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কেন? অপহরণ করার দায়ে। যাবে কোথায় মানুষ। পুলিশ কর্মকর্তা যদি অপহরণ করে, ৫০ লাখ টাকা চায়, দেশের মানুষ যাবে কার কাছে! কক্সবাজারে মেজর সিনহার মামলা শুরু হয়েছে। কী ভয়ঙ্কর! একজন পুলিশ অফিসার গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পা দিয়ে গলা চেপে ধরেছে। এখানে অনেক পরিবার আছেন, যাদের সন্তান গুম হয়ে গেছে। এই সরকার, এই পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে করিয়েছে। এই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে করিয়েছে। এই কারণে এ দেশের মানুষ আজ অসহায় অবস্থায় পড়েছে। কোর্টেও দলীয়করণ। সেখানে দল হিসেবে মানুষের বিচার হয়। বেগম খালেদা জিয়া, যাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছেন। বেআইনিভাবে তাকে লোয়ার কোর্টে সাজা দিলো সাত বছর, হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে দিয়ে করল ১০ বছর। অথচ ওই মামলায় সবাই জামিনে আছে। আজকে এই সরকার শুধু দলীয়করণ করছে। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে।