শরীয়তপুরে যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২৫
শরীয়তপুরে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পথচারী ও অফিসগামী সরকারি কর্মচারীসহ অন্তত ২৫ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শহরের ৫টি স্থানে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং বাজারের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এই সভার আয়োজন করে সংগঠনটির জেলা কমিটি। এ সময় সেখানে নতুন কমিটির পদ প্রত্যাশীরা তাদের শক্তি প্রদর্শনে কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করেন।
পক্ষ দুটির নেতৃত্ব দিয়েছেন সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর সমর্থক ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাচ্চু ব্যাপারী এবং ইকবাল হোসেন অপুর চাচাতো ভাই সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেন দিপু মিয়া।
অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন পৌর মেয়র পারভেজ রহমান জন ও সাবেক সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক সমর্থিক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাহাড়।
নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী পারভেজ রহমান জন, সিদ্দিক পাহাড় ও সাখাওয়াৎ হাওলাদার তাদের সমর্থকদের নিয়ে বর্ধিতসভায় আসতে চাইলে বাঁধা দেন সভাপতি পদপ্রত্যাশী বাচ্চু ব্যাপারী ও দিপু মিয়ার সমর্থকরা। তখন উত্তর বাজার, বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ও মনোহর বাজার মোড়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
এ সময় বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক দুই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং ২৫ জন আহত হন।
এ সময় শরীয়তপুর সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক শামীম হাসান (২৫) ও অফিস সহায়ক চয়ন বিশ্বাসকে (২৫) মারধর করে আহত করা হয় এবং তাদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শরীয়তপুর সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক শামীম হাসান (২৫) দ্য ডেইলি স্টার বলেন, 'আমার অফিসের বেতন উঠানোর জন্য অফিস সহকারী চয়ন বিশ্বাসকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ব্যাংকে যাচ্ছিলাম। পথে যুবলীগের মিছিল দেখতে পেয়ে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে অপেক্ষা করি মিছিল চলে যাওয়ার। কিন্তু হঠাৎ করে মিছিল আমাদের কাছে আসতেই মিছিলের সমর্থনকারীরা রড ও বাঁশ দিয়ে আমার পায়ে, হাতে এবং পিঠে আঘাত করে। বাশেঁর আঘাতে আমার অফিস সহায়কের মাথা ফেটে যায় এবং দুস্কৃতিকারীরা আমাদের মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলে। পরে একজন সাংবাদিক আমাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।'
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া-সদর সার্কেল) মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুরো শহরে বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা ২১ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ি। পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে আজকের বিশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। যারা অস্ত্র প্রদর্শন করে মিছিল করেছেন তাদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সংঘর্ষকারীদের খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।'
আজকের এ ঘটনায় কোনো মামলা হবে কি না জিজ্ঞেস করলে শরীয়তপুর পালং মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আকতার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কয়েকজন অভিযোগকারী আমাকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন কিন্তু কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তাই এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।