শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নয়, সম্ভাব্য আন্দোলন রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ: বিএনপি

ইউএনবি, ঢাকা

বিএনপি অভিযোগ করে বলেছে, সরকার করোনা থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার পরিবর্তে একটি সম্ভাব্য আন্দোলন রোধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সরকারকে অবিলম্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানান।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের ফলাফল নিয়েই এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এ সময় মির্জা ফখরুল সরকারকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় আনারও দাবি করেন।

অশুভ শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুনরায় খোলার পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ফখরুল বলেন, 'তার (কাদের) মন্তব্য প্রমাণ করেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে আন্দোলন না করার জন্য, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য নয়।'

ইউনিসেফ কর্তৃক প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার কারণে সব স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের চার কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, সরকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যেন তাদের ব্যর্থতা ও অপকর্ম থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া যায়।

তিনি বলেন, 'জিয়াউর রহমানকে চন্দ্রিমা উদ্যানে দাফন করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে। তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ (এইচএম এরশাদ) নিজেই তার (জিয়ার) মরদেহ বহন করেছিলেন।'

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার লাশ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফখরুল বলেন, 'সততা এবং ভালো রুচির অধিকারী কেউই এ ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। তার মন্তব্য অশালীন, ঘৃণ্য এবং মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।'

তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত জিয়ার লাশ ও কবর নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। জিয়াউর রহমান জনগণের হৃদয়ে থাকায় অনেকেই তা সহজভাবে নেয়নি।'