সিইসি’র লজ্জা-শরম বলতে কিছুই নেই: মির্জা ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সহিংসতার জন্য সরকারকেই অভিযুক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন, কী করেছেন তারা। আমার কথা নয়, আজকের খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন, এত বড় বড় রামদা, ছুরি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে। চিন্তা করা যায়! আবার মন্ত্রীরা বলছেন, না না এটা তেমন কিছু না, একটু সাধারণ ঝগড়া-ঝাটি।'

'আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, এসব কিছুর মূলে আছে সরকার, সব কিছুর মূল হলেন শেখ হাসিনা। তারা অত্যন্ত সচেতনভাবে, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে, বাংলাদেশ থেকে সমস্ত সুস্থ চিন্তা-ভাবনা, মুক্তচিন্তা- এগুলোকে নির্বাসিত করেছে এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে…। উদ্দেশ্য একটাই, এখানে কেউ রাজনীতি করবে না। তারা ক্ষমতা দখল করে বসে থাকবে', বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'নির্বাচন কমিশন বলছে যে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে। সংঘর্ষ যা হয়, তার দায়-দায়িত্ব আমাদের না। এই ভদ্রলোকের (সিইসি) লজ্জা-শরম বলতে কিছুই নেই।'

'এই বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে তিনি ধ্বংস করলেন এবং নির্বাচনের যে চিন্তাভাবনা নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি, সেটা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে আজকে কী করলেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে? আমাদের সাধারণ মানুষেরা এই নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট হয়, তারা জড়িত হয়, সেটাকে তিনি শেষ করে দিলেন। পত্রিকায় দেখলাম যে, বড় বড় রামদা, পিস্তল, লাঠিসোটা নিয়ে…। ইতোমধ্যে গতকাল অনেকে মারা গেছেন,' যোগ করেন তিনি।

'বাংলাদেশ অগণতান্ত্রিক দেশ'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে কত বড় দুঃখ-লজ্জার যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন একটা গণতন্ত্র সভা ডেকেছেন। আমরা পত্রিকায় দেখেছি, ১০০টি দেশকে ডেকেছেন। আমরা এতো শান্তি পেতাম, ভালো লাগতো, নিজের মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়াতো যে, আমাদের বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু আমাদের নামটা সেখানে নেই।'

'অর্থাৎ এই নেতা (শেখ হাসিনা) গত ১২-১৩-১৪ বছরে আমাদের...। দেশটা যে একটা গণতান্ত্রিক দেশ ছিল, আমরা যার জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি, যার জন্য কেয়ারটেকারের মতো একটা ইউনিক সিস্টেম আমরা নিয়ে এসেছিলাম, যার মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতাম, সেই দেশ আজকে পরিচিত হচ্ছে একটা অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে। এর চেয়ে লজ্জার ব্যাপার, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের ব্যাপার আর কিছু হয় না', বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই সরকার এতোই প্রতিহিংসাপরায়ণ যে, তারা অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়নি। এতোই প্রতিহিংসা। এই প্রতিহিংসার আগুনে গোটা দেশকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিলো। আমি এজন্য বলেছিলাম যে, রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়। কোথাও শান্তি খুঁজে পাবেন না।'

'আপনি গ্রামে-গঞ্জে যান, চায়ের দোকানে বসেন, দেখবেন মানুষের মধ্যে শান্তি-স্বস্তি, যেটা কমফোর্ট বলি আমরা সেটা নেই। আপনি স্কুলে যান, কলেজে যান, মসজিদে যান কোথাও শান্তি নেই। কী জানি কী বলতে বলে ফেলি, কী জানি কী হয়, এই একটা অশান্তি-অস্বস্তির মধ্যে আমরা আছি', বলেন তিনি।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে মন্তব্য করে সব রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

'রোহিঙ্গা: সরকারের উদ্দেশ্য অন্যরকম'

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, 'এই সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে একটা রাজকীয় অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। কেন? আপনাদের উদ্দেশ্য অন্যরকম। আপনারা এ দেশে এটাকে একটা পার্মানেন্ট ইস্যু হিসেবে নিজেরা এখান থেকে ফায়দা লুটতে চান।'

'এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ফলপ্রসূ কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাঁধা দিচ্ছে? এই সরকারের বন্ধু ভারত, চীন ও রাশিয়া। এত বেশি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব যে, সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না কেন', প্রশ্ন ফখরুলের।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা'র একাংশের উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে 'দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান' শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

জাগপা সভাপতি খন্দকার লুতফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপি'র আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, এনপিপি'র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপি'র শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম ও জাগপা'র আওলাদ হোসেন শিল্পী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।