‘হামারগুলার কপালোত এ্যাকনা টুকরাও গোশত জোটে না’
'আইত পোহাইলে কোরবানি ঈদ, কিন্তু হামারগুলার কপালোত এ্যাকনা টুকরাও গোশত জুইটবার নয়। কাই হামাক গোশ দিবে। কোনটে থাকি গোশত আইনমো।'
কথাগুলো বলছিলেন মরিয়ম খাতুন (৪৪)। লালমনিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওগাজী মাঝার এলাকার এই বাসিন্দার স্বামী দুলাল মিয়া (৪৮) একজন দিনমজুর। এক ছেলে, এক মেয়ে এবং দুলালের মা সখিনা বেওয়াকে নিয়ে দুলাল-মরিয়মের সংসার।
মরিয়ম বলেন, 'গেল সেমাই খাওয়া ঈদোত এ্যাকজনে এ্যাকনা ফেতরার কাপড় দিছে। সেইকনা কাপড় পড়ি বেরবার নাগছোং। ছওয়াপোয়া কারো কোন কাপড় কিনির পাং নাই। কোরবানি ঈদোতও হামার কপালোত কোন কাপড়-চোপড় নাই। ছওয়াগুলা গোশতের জন্য কান্দাকাটি কইরবে। টাকা থাইকলে বাজার থাকি এক কেজি বয়লারের গোশত কিনি আনির পানুং হয়।'
করোনা মহামারির আগে দুলাল মিয়ার একটি ভ্যানগাড়ি ছিল। ভ্যানে তিনি রকমারি পণ্য ফেরি করে বিক্রি করতেন। মহামারিতে আর্থিক ধাক্কা কাটাতে না পেরে তিনি ভ্যানটি বিক্রি করতে বাধ্য হন।
করোনার ২ বছরে হতদরিদ্র হয়ে পরেছে এই পরিবারটি। দিনমজুরির কাজও ঠিক মতো না পাওয়ায় বাড়ছে ঋণের বোঝা।
দুলাল মিয়া অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, 'করোনাত হামরাগুলা আরও বেশি গরীব হয়া গ্যাইছোং। হাতোত জমা টাকা শ্যাষ হইছে। ভ্যানগাড়ি খান বেচাইছোং। ঘরের চালের টিনও বেচায়া সংসার চালাইছোং। এ্যালা মুই লোনের টাকা শোধ করোং নাকি সংসার চালাং। এলাকাত কাজ কামাইও নাই ঠিকমতো।'
তিনি আরও বলেন, 'আইত পোহাইলে কোরবানি ঈদ। কিন্তু মুই এ্যালাং কিছু কিইনবার পাং নাই। ভিজিএফ-এর ১০ কেজি চাইল পাইছোং কিন্তু ঘরোত আনাচ-তরকারি নাই। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ নাই। হামারগুলার কপালোত খালি দুখখো আর দুখখো। হামারগুলার চোখোত খালি পানি।'
দুলাল মিয়ার বৃদ্ধা মা সখিনা বেওয়া (৬৫) বলেন, 'আল্লাহ হামাকগুলাক এতা কষ্টোত থুইছে। ঘরোত খাবার নাই। নয়া জামা কাপড় নাই। মাইনসের কাছে হাত পাতি চাইল আনি খাবার নাইকছি। কোনটে কোনা যামো। গরীবের ভিতি কাইও দ্যাখে না। আগোত তো বড়লোকরা কোরবানির গোশত বাড়ি বাড়ি দিয়া গ্যাইছলো কিন্তু এ্যালা আর দ্যায়। সাগাই আর গোষ্ঠির মানুষোক আগোত দ্যায়। তাপর বাইচলে গরীব মানুষোক দ্যায় এ্যাকনা করি।'