জিনোম সিকোয়েন্স: চট্টগ্রামের ২ হাসপাতালে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ৭৫ শতাংশ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট

অরুণ বিকাশ দে, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে গত নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের কোভিড পজিটিভ রোগীদের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে দেখা গেছে ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে আসা  রোগীদের ৭৫ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সার্স কভ-২ এর জিনোম সিকোয়েন্সের আন্তর্জাতিক ডাটাবেস জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইড) থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান।

ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদী জানান, চট্টগ্রামের ওমিক্রনে আক্রান্তদের নিয়ে এত অল্প নমুনার বিশ্লেষণে কোনো উপসংহারে আসা সম্ভব নয়। আরও অন্তত কয়েকশ জিনোম সিকোয়েন্স করলে এর চরিত্র নিয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।'

৩০ জন রোগীর নমুনা থেকে করা জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা যায়, গত ১ নভেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত আসা সব রোগীই ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে নবজাতক থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ রোগী রয়েছে। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বরের পরে আসা ৭৫ ভাগ রোগী ওমিক্রনে আক্রান্ত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২ জন রোগীর শরীরে ওমিক্রনের সাম্প্রতিকতম ধরন 'বিএ২' বা 'স্টেলথ ওমিক্রন' যা জানুয়ারির শুরু থেকে ছড়িয়ে পড়ছে কয়েকটি দেশে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও হিউস্টন, ভারত, চীন এবং ওমানে এই ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে এটিই প্রথম 'বিএ২' শনাক্তকরনের তথ্য। তবে এই নতুন ধরনটি খুব বেশি বিপজ্জনক নয় বলে জানান গবেষকেরা।

ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে গলা ব্যথা ও গলার স্বর বিকৃত হয়ে যাওয়া, ৯০ ভাগ রোগীর মধ্যেই এই লক্ষণ দেখা গেছে। ৮৫ ভাগের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং ৮০ ভাগের জ্বর ছিল। ওমিক্রনে আক্রান্ত সবার বয়স ২১ বছরের ঊর্ধ্বে। শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এখনও তা শনাক্ত হয়নি।

গতবছরের এপ্রিল থেকে নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতালের রোগীদের জিনোম সিকোয়েন্স করা হচ্ছে জিনমিক সার্ভিলেন্স প্রজেক্টের আওতায়, বলেন ড. মান্নান।

জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সহপ্রকল্প পরিচালক হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুর রব মাসুম, মা ও শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় বিশ্বাস এবং ডা. নাহিদ সুলতানা, আইসিডিডিআরবি'র ভাইরোলজি বিভাগের বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। সহায়তায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় আছে কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজ এবং তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক ডেভিড কেলভিন এবং আব্দুল্লাহ মাহমুদ আল রাফাত। সিকোয়েন্সিংয়ের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে আছেন আইসিডিডিআর'বি এর ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি এর বিজ্ঞানীরা।