নোয়াখালীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ৩ ডোজ টিকা দেওয়ার অভিযোগ
নোয়াখালীর চাটখিলে ২ মিনিটের ব্যবধানে নবম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ৩ বার করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষার্থীর পরিবার ও হাটপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাটপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন হোসেন আরাফাত (১৪) বৃহস্পতিবার সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে যায়। সেখানে তাকে ২ মিনিটের ব্যবধানে ৩ বার টিকা দেওয়া হয়।
পরে আরও ১ বার তাকে টিকা দিতে গেলে সহপাঠীরা বাধা দেয়। ইয়াছিন টিকা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকে বিষয়টি জানায়।
হাটপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজ সকালে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমাদের বিদ্যালয়ের ৩০৯ জন শিক্ষার্থীকে ফাইজার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে টিকাদানকর্মী দিদার হোসেন ইয়াছিনের বাহুতে পরপর ৩ ডোজ টিকা দেন। টিকাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে ইয়াছিন আমাকে ৩ ডোজ টিকা দেওয়ার কথা জানায়।'
প্রধান শিক্ষক বলেন, 'বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের জানাই। এরপর একজন মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে ছাত্রটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়।'
জানতে চাইলে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ অভিযোগের পর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত টিকাদানকর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তিনটি নয় ওই শিক্ষার্থীকে ভুলবশত দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।'
নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'এ ঘটনায় হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তিথি আজিজকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।'
'তিন ডোজ নয় দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ওই শিক্ষার্থীকে। সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো,' যোগ করেন তিনি।