বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার হাসপাতালে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসেবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২২৭ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের গত ২২ দিনে ১৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫১। তবে, এই অঞ্চলে ডেঙ্গুতে এখনো কারো মৃত্যু হয়নি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ইতোমধ্যে ঢাকার আইডিসিআররের একটি পরিদর্শক দল বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তারা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষাসহ তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
চিকিৎসাধীন রোগীর অধিকাংশ ঢাকা থেকে এ অঞ্চলে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এসব রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অধিকতর পরিক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র মশক নিধনের পাশাপাশি বংশ বিস্তার রোধে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ায় তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পুরো অক্টোবর জুড়েই ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত থাকতে পারে। এডিস মশা ও তার লার্ভা ধ্বংশে বিশেষ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ এইচ সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫০ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস জানায়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এরমধ্যে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির পরে চিকিৎসা নিয়ে ১১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৯ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে, নগরীতে ঠিক কতজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন তার কোনো সঠিক তথ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে নেই।
সিটি করপোরেশনের পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনজার্ভেন্সি কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম জানান, বিসিসি ত্রিশটি ওয়ার্ডে প্রায় এক হাজার শ্রমিক পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত আছেন।