ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, যুক্তরাষ্ট্র কি অভিশংসনের দিকে এগোবে?
ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন চরম উত্তেজনার পারদ। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল যুদ্ধ, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে রেকর্ডভাঙা ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ এবং জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম—সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোস সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩৬ শতাংশে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প নিজেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন—রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচন হারলে তাকে অভিশংসিত করা হতে পারে। এর আগের মেয়াদেও তাকে অভিশসিত করা হয়েছিল। এমন এক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ঘনিয়ে আসছে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মার্কিন রাজনীতির এই জটিল সমীকরণ, অর্থনীতির নাজুক অবস্থা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য অভিশংসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন অর্থনীতির নাজুক অবস্থা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ এক মাস পার করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রায় চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানির মূল্যে ঊর্ধ্বগতি
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম এক ডলারের বেশি বেড়ে গ্যালনপ্রতি গড়ে ৩ দশমিক ৯৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এই ঊর্ধ্বগতি বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা বা ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের সময়কার মাসিক বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইউএস সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টিতেই অন্তত একটি গাড়ি রয়েছে এবং ১০টির মধ্যে ২টি পরিবারে অন্তত তিনটি বা তার বেশি গাড়ি আছে। যেহেতু অধিকাংশ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র উপায় গাড়ি, তাই তেলের দাম বাড়লে তাদের খরচ কমানোর কোনো বিকল্প পথ থাকে না। বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হয়, যা খাবার বা চিকিৎসার মতো অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে প্রভাব ফেলে।
এরই মধ্যে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৪ জন মার্কিন নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গ্যাসোলিনের দাম মেটানোর সামর্থ্য নিয়ে ‘খুবই’ উদ্বিগ্ন বলে জানায় বার্তাসংস্থা এপি।
ভোক্তাদের আস্থায় ধস
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে প্রতি ১০ জনের মধ্যে তিনজনে, যা জো বাইডেনের মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়েও নিচে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনে ৬ জন মার্কিন নাগরিকই মনে করেন মার্কিন অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্ব বাজারে প্রভাব
বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরান বন্ধ করে দিতে পারে। ইতোমধ্যে তেলবাহী জাহাজগুলোর ইন্স্যুরেন্স খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১৫০টি ট্যাংকার আটকে আছে বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।
জনমতের রায়
প্রতি ১০ জনে ৭ জন নাগরিকই মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুতই এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস এবং ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে বর্তমানে তার জনপ্রিয়তার হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এর অন্যতম কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা ‘নো কিংস’ আন্দোলন এবং যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের অভাব।
‘নো কিংস’ আন্দোলন
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত জুনে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ফের শুরু হওয়া আন্দোলনে ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডালাস ও ফিলাডেলফিয়ায় বড় সমাবেশ হলেও, দুই-তৃতীয়াংশ কর্মসূচি হয়েছে ছোট শহর ও কমিউনিটিতে—যা আন্দোলনের বিস্তারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
মিনেসোটায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের হাতে রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পর সেখানে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান ইন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
যুদ্ধের বিরোধিতা
সিএনএনের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
ফোর্বসের আরেকটি জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০ জন ডেমোক্র্যাটের মধ্যে প্রায় ৯ জন, ১০ রিপাবলিকানের মধ্যে ৩ জন এবং ১০ স্বতন্ত্রের মধ্যে ৬ জন ভোটার এই সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রভাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। ইউএস ভোট ফাউন্ডেশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এই মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে (অর্থাৎ দুই বছর পর) যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাকেই ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। ২০২৬ সালে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর।
এই নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য
এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের সম্পূর্ণ ৪৩৫টি আসন এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৩টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে ভোটাররা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার বিপরীতে কংগ্রেসে ভারসাম্য আনার সুযোগ পান বলে জানায় আল জাজিরা।
প্রেসিডেন্টের মধ্যবর্তী টেস্ট
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নৈপুণ্যের পরিমাপক হিসেবে ধরা হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারায়।
ট্রাম্পের শঙ্কা ও ডেমোক্র্যাটদের ছক
ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, ‘আপনাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততেই হবে। কারণ আমরা না জিতলে তারা আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ খুঁজে বের করবে। আমি অভিশংসিত হবো।’
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চরম মাত্রায় আইনি নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও করছে।
অভিশংসনের আইনি প্রক্রিয়া এবং ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রেসিডেন্ট বা অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করার সুস্পষ্ট আইনি রূপরেখা দেওয়া আছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়া মানেই সরাসরি ক্ষমতাচ্যুত হওয়া নয়।
আইনি প্রক্রিয়া
অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার একক ক্ষমতা রয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা নিম্নকক্ষের হাতে। হাউসে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অভিশংসনের অভিযোগ গৃহীত হলে প্রেসিডেন্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিশংসিত হন।
এরপর সিনেট (উচ্চকক্ষ) বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদচ্যুত করতে হলে সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জনের ভোট প্রয়োজন হয়। অভিযোগের মূল ভিত্তি হতে হয়—রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তারা আইনি নোটিশ জারির মাধ্যমে একাধিক তদন্ত শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানায় ওয়াশিংটন পোস্ট।
তারা জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক এবং এ সংক্রান্ত আইনি ফাইল আটকে রাখার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ভাবছেন।
ট্রাম্প ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সংবিধানের ‘উপহার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ’ লঙ্ঘন তদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ক্রিপ্টো ব্যবসার অংশীদারত্ব বিক্রি, নিজের ব্যক্তিগত আয়করের তথ্য ফাঁসের পর সরকারের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা এবং কাতার থেকে পাওয়া একটি উড়োজাহাজ গ্রহণের মতো বিষয়গুলো।
ডেমোক্র্যাটরা শুধু ট্রাম্প নয়, বরং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও টার্গেট করছেন। বিশেষ করে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের হাতে নিহতের ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি এল নোয়েম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে অভিশংসন করার আইনি ভিত্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী অভিশংসনের উদাহরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেট চূড়ান্তভাবে পদচ্যুত করতে পারেনি। তবে অতীতে অভিশংসনের কিছু বড় উদাহরণ রয়েছে।
রিচার্ড নিক্সন (১৯৭৪): ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির কারণে অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
বিল ক্লিনটন (১৯৯৮): মনিকা লিউইনস্কি স্ক্যান্ডালে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্নের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে শপথের অধীনে মিথ্যা বলার অভিযোগে তিনি অভিশংসিত হন। তবে সিনেটে তিনি খালাস পান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (২০১৯ ও ২০২১): ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা আটকে রাখার অভিযোগে এবং ২০২১ সালে নির্বাচনের আগে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় উসকানির অভিযোগে তাকে অভিশংসন করা হয়। প্রতিবারই সিনেটে তিনভাগের দুইভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন।
কংগ্রেসের ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধকালীন বরাদ্দ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রয়টার্স জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল যুদ্ধকালীন তহবিল কংগ্রেসের কাছে চাওয়ার আবেদন করেছে। এটি মার্কিন রাজনীতিতে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিপুল ব্যয়: আইনপ্রণেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যুক্তি: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই বিশাল বরাদ্দের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেছেন, ‘খারাপ লোকদের হত্যা করতে অর্থের প্রয়োজন হয়।’
কংগ্রেসে প্রতিক্রিয়া: এই প্রস্তাবটি কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ের তরফ থেকেই বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ইতোমধ্যে গত মাসে ৮৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট এবং গত গ্রীষ্মে অতিরিক্ত ১৫৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিল অনুমোদন করেছে।
রাজনৈতিক সমালোচনা: ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেনটেটিভ প্রমিলা জয়পাল এই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং এর জন্য উন্মুক্ত শুনানির দাবি জানিয়েছেন বলে জানায় রয়টার্স।
সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন এবং আইনি তদন্তের বন্যা বয়ে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনি কত দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন এবং কীভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক চাপ সামাল দেন তার ওপর।