রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার যেসব কারণের কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবারের সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী কারণগুলো উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ শতাংশ রাজস্ব আদায় করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কম রাজস্ব আদায়ের প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন, উচ্চ উৎপাদন খরচ, সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং ওই অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৪ কোটি টাকা।

এই দুই অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে ১১টি কারণ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সরকার না থাকা, কম বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা, কম উৎপাদন ও সরবরাহ এবং ভ্যাট ও সম্পূরক আবগারি শুল্ক দেওয়া বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ কম, আমদানি কম, উৎপাদন ও সরবরাহ কম এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক দেওয়া বিপুল সংখ্যক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ অর্থবছরে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ শুল্ক হারের পণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ কমায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

জ্বালানি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এলএনজি আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়, যার ফলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে মন্ত্রী জানান।

বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় গাড়ি আমদানি কম হওয়ায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক স্থবিরতা তৈরি হয়, যা সাপ্লাই চেইনকে ব্যাহত করে এবং খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা-বাণিজ্যকে স্থবির করে দেয়।

এতে ব্যবসা থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে পায়। এটা করপোরেট কর আদায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে টানা প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত সঞ্চয় বা করযোগ্য উদ্বৃত্ত আয় কমে যায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে অনেক তৈরি পোশাক ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারেনি।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চ সুদের হার এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যায়। ফলে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা কমে গেছে, যা আয়করের একটি প্রধান উৎস।