যা হতে চয়েছিলেন মৌসুমী

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

ঢাকার চলচ্চিত্র জগতের প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমী।

১৯৯৩ সালে তার অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায় এবং রেকর্ড সৃষ্টি করে। তার ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমাটিই তাকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এনে দেয়। 

এরপর তার ক্যারিয়ারে শুধুই সাফল্যগাঁথা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, কোটি দর্শকের ভালোবাসায় তিনি এগিয়ে যান এবং ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে অবস্থান গড়েন বহু আগে। চলচ্চিত্র পরিচালনা করেও প্রশংসিত হন।

বর্তমানে মৌসুমী বসবাস করছেন আমেরিকায়। সেখান থেকে কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

পেছনের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘স্কুলজীবনে কখনো ভাবতাম শিক্ষক হব। শিক্ষকরা খুব সুন্দর করে ক্লাস নেন। সবাই তাদের সম্মান করেন। এসব দেখেই মনের ভেতরে ভাবনা কাজ করত, শিক্ষক হব। কিন্তু নিয়তি বলে একটা কথা আছে? নিয়তি কাকে কখন কোথায় নিয়ে যাবে, আমরা কেউই জানি না।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলজীবনে আরও ভাবতাম আইনজীবী হব। নামকরা উকিল হয়ে সুনাম অর্জন করব। কেন এমন ভাবনা কাজ করত, জানি না। কিশোর বয়সে এমন ভাবনা খেলা করত আপন মনে, একান্ত ভাবনায়।’

মৌসুমী আরও বলেন, ‘আবার কখনো কখনো ভাবতাম বিমানবালা হব, আকাশে আকাশে ঘুরে বেড়াব, নীল আকাশ হবে আমার ঠিকানা, দেশ থেকে দেশান্তরে যাব, কত কী দেখব। সারা পৃথিবী ঘুরব বিমানবালা হয়ে। কিন্তু ভাগ্যে তো এটাও ছিল না।’

প্রথম সিনেমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকাই সিনেমায় আমার অভিষেক “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” সিনেমা দিয়ে। এই সিনেমাটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, ইতিহাস হয়ে আছে রূপালি জগতে। দর্শকদের জন্যই তা সম্ভব হয়েছে।’

ঢালিউডে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম জীবনে পাক্ষিক আনন্দ বিচিত্রার ফটোসুন্দরী নির্বাচিত হই। শুরুতে আমি এগিয়ে ছিলাম না, পরে দর্শকদের ভোটে এগিয়ে যাই এবং চ্যাম্পিয়ন হই। শোবিজে শুরুর গল্প বলতে গেলে এই প্রতিযোগিতার কথা বলতেই হবে। তখন সম্পাদক ছিলেন শ্রদ্ধেয় শাহাদত চৌধুরী।’

সিনেমায় আসার আগে মৌসুমী একদিন নায়িকা শাবনাজের শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একদিন শাবনাজের সিনেমার শুটিং দেখতে গিয়েছিলাম। সিনেমার নাম মনে নেই। আব্বুর সঙ্গে গিয়েছিলাম। আব্বুর সঙ্গে পরিচালকের পরিচয় ছিল। শুটিং দেখে ভালো লেগেছিল।’

‘আনন্দ বিচিত্রা সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়ার পর পরপর তিনটি মডেলিংয়ের কাজ করি। মডেলিং করে পরিচিতি আসে এবং জনপ্রিয়তা পাই’, যোগ করেন তিনি। 

মৌসুমী বলেন, ‘এরপরই শুরু হয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। এক এক করে প্রস্তাব আসতে শুরু করে। কিন্তু বাসা থেকে কেউ রাজি ছিল না। আমার নিজেরও শুরুতে তেমন আগ্রহ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাই তখন সাংবাদিকতা করেন। ফটোসুন্দরী হওয়ার পর গুলজার ভাই আমাদের বাসায় এসেছিলেন ইন্টারভিউ করতে। একদিন আব্বুর সঙ্গে বাসায় দেখা করতে আসেন তিনি । সঙ্গে করে নিয়ে আসেন সোহানুর রহমান সোহান ভাইকে। সেদিনই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাই।’

নস্টালজিক হয়ে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ভিসিআরে সিনেমা দেখার বেশ প্রচলন ছিল। আমিও দেখেছি। সবচেয়ে বেশি দেখেছি হিন্দি সিনেমা “কেয়ামত সে কেয়ামত তক”। আর সেই সিনেমা ঢালিউডেও রিমেক হবে একদিন এবং সেখানে আমিই নায়িকা হব, তা কখনো কল্পনা করিনি।’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির সময়ের কথা বলতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পেল এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিনেমার নাম মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এই সিনেমার গান মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আমার ও সালমান শাহ জুটির সুনামও ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সেই সময় এই সিনেমা দেখেননি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে, এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

নিজের সিনেমা প্রথম প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তির পর আমিও হলে গিয়ে দেখেছিলাম। প্রথম দেখেছিলাম ফার্মগেট আনন্দ হলে। ওই স্মৃতি ভুলবার নয়।’