চাঁদনী সিনেমার ৩৫ বছর পূর্তিতে নাঈমের স্মৃতিচারণ
আজ থেকে ৩৫ বছর আগে, ১৯৯১ সালের এই দিনটিতে মুক্তি পেয়েছিল ‘চাঁদনী’ সিনেমা।
সিনেমাটির পরিচালক এহতেশাম। নাঈম ও শাবনাজ জুটির প্রথম সিনেমা চাঁদনী। মুক্তির পর সিনেমাটি সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলেছিল।
অভিষেক সিনেমা দিয়ে আলোচনায় এসে পরবর্তীতে আরও অনেক হিট সিনেমার জুটি হন নাঈম-শাবনাজ।
চাঁদনী সিনেমার ৩৫ বছর পূর্তিতে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন নায়ক নাঈম।
নাঈম বলেন, ‘সিনেমায় নায়ক হওয়ার আগে মডেলিং করেছি। টেলিভিশনে তা প্রচার হয়েছে এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছি। খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম সাহেবের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আব্বার সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল। একদিন আমাকে দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের কথা বলেন। এরপর তিনি শাবনাজের বাসায় যান। নায়িকা হিসেবে তাকে বেছে নেন পরিচালক এহতেশাম। শাবনাজের বাবাও চাঁদনী সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। তিনি শিল্প-সংস্কৃতি পছন্দ করতেন, অভিনয়ও করতেন।’
‘শুটিং শুরুর আগে গানগুলো রেকর্ড করা হয়। বিখ্যাত গীতিকার, সুরকাররা গান করেন। মহরত হয়েছিল জমকালো আয়োজনে। মহরতের স্মৃতি ভুলব না। আজও চোখে ভাসে। প্রথম শুটিং করি বারিধারায়। দিনটি ছিল আমার জন্য স্মরণীয়’, স্মৃতিচারণ করেন নাঈম।
নস্টালজিক হয়ে নাঈম আরও বলেন, ‘মডেলিংয়ে অভিজ্ঞতার কারণে আমার কোনো ক্যামেরাভীতি ছিল না। চাঁদনী সিনেমার জন্য ঢাকার শুটিং শেষ করে আমরা সিলেট চলে যাই। জাফলংয়ে শুটিং করি বেশ কিছুদিন। সেখানে একটি বাড়িতে ছিলাম। তখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। রাতে আমরা হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে শুটিং করতাম।’
আউটডোরের শুটিং অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘জাফলংয়ে শুটিং করার সময়ের অনেক ঘটনা আছে। যে বাড়িতে থাকতাম, সেই বাড়িতে একটি পুকুর ছিল। সবাই সেখানে গোসল করতেন। ওই পুকুরে জোঁক ছিল। এই ভয়ে আমি তো পুকুরে নামি না। প্রচণ্ড শীত তখন। শীতের মধ্যে পানি গরম করে গোসল করতাম। বেশিরভাগ শিল্পীই নতুন ছিলাম। সাদেক বাচ্চু ছিলেন, তিনি মারা গেছেন। রাণী সরকার ছিলেন। তিনিও বেঁচে নেই।’
‘অনেক যত্ন করে পরিচালক কাজগুলো করেন। আমিও নতুন হিসেবে যতটা শ্রম দেওয়ার, তা দিই। ইউনিটের সবাই প্রচণ্ড সততা ও শ্রম দিয়ে কাজ করেন। শীতের সময় কষ্ট হয়েছে খুব। তারপরও করেছি। ভালো লাগা থেকেই করেছি। সব শিল্পীরাই তাই করেছেন’, যোগ করেন তিনি।
নাঈম বলেন, ‘শুটিং শেষ করে আমরা ঢাকায় ফিরি। অনেক স্মৃতি, অনেক উত্তেজনা, অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনি।’
সিনেমা মুক্তির সময়ের স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘প্রথম সিনেমা চাঁদনী মুক্তির সময় অল্প কিছু হলে মুক্তি পায়। সত্যি কথা বলতে, নতুন জুটির সিনেমা চলবে কি না, এই রকম ভাবনা থেকেই কেউ কেউ নিতে চাননি। কিন্তু পরিচালক সাহেবের সম্মানে কিছু হল নিয়েছিলেন।মধুমিতা, বলাকাসহ ২০-২২টি হলে মুক্তি পেল চাঁদনী।’
চাঁদনী সিনেমা মুক্তির আগের রাতের গল্প বলতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘চাঁদনী সিনেমার বড় একটা টিম ঢাকা শহরের হলে হলে ছুটে যাই। ব্যানার ঠিকমতো লেগেছে কি না, তা দেখার জন্য। তাছাড়া, শহরের রাস্তার দুই পাশে পোস্টার ঠিক আছে কি না, থাকলেও কেমন আছে, তা দেখার জন্য রাতে শহরের রাস্তায় ছুটে বেড়াই আমরা। রাত চারটা নাগাদ এই কাজ করি। শেষ রাতে আমরা বাসায় ফিরে যাই প্রবল উত্তেজনা নিয়ে। হাজার হলেও প্রথম সিনেমা। একদল চলে যায় সিলেটে শাহজালাল সাহেবের মাজার জিয়ারত করতে। সিনেমা মুক্তির আগে আশীর্বাদ নিতে।’
‘সেই সময় মর্নিং শো ছিল। মুক্তির দিন মর্নিং শোতে খুব বেশি দর্শক হয়নি। কিন্তু দুপুরের শো থেকে খবর আসতে লাগল দর্শক আর দর্শক। হাউজফুল আর হাউজফুল। আমি তো মহাখুশি। যাক, সৃষ্টিকর্তার রহমতে দর্শকরা আমার প্রথম সিনেমা দেখতে হলে আসছেন। এরপর শুধু হাউজফুলের খবর আসতেই থাকে এবং হল সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ঢাকার বাইরেও এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে’, স্মৃতিচারণা করেন নাঈম।
নাঈম বলেন, ‘মুক্তির পর মঙ্গলবার আব্বা-আম্মাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মধুমিতা হলে সিনেমা দেখতে যাই। শো শেষ হওয়ার পর হল থেকে বের হতে পারছিলাম না। অনেক ভিড় হয়েছিল। অনেক দর্শক ছিল সেখানে। বের হওয়ার কোনো উপায়ই ছিল না। সবাই আমাকে দেখতে চাইছিল। এই স্মৃতি ভুলবার নয়।’
তিনি বলেন, ‘এখনো দর্শকরা চাঁদনী সিনেমার কথা বলেন। মানুষ এখনো মনে রেখেছেন। এটা বিশাল পাওয়া।’


