নীতি নির্ধারকদের ইঙ্গিত ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে এমন জুলুম সম্ভব নয়: পরওয়ার
সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের ‘ইঙ্গিত’ ছাড়া একজন প্রবীণ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এমন ‘জুলুম’ হতে পারে না।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
পরওয়ার বলেন, ‘মামলা বা তার গ্রেপ্তার আসলে কোনো ইস্যু নয়। গত দুই-তিন দিন ধরে তাকে নিয়ে যা ঘটছে, সেটাই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সরকারের নীতি নির্ধারণী জায়গায় যারা আছেন, তাদের ডিকটেশন ছাড়া এত বড় জুলুম একজন সিনিয়র নাগরিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘটতে পারে না।’
তিনি জানান, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় লাগেজের জন্য অপেক্ষা এবং অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করেছিলেন। তার বক্তব্য বা আচরণে উত্তেজনা থাকলেও সেটিকে কেন্দ্র করে মামলা এবং গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
‘এই ঘটনাটাকে একটা উপলক্ষ বানিয়ে তার ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,’ বলেন পরওয়ার।
তিনি দাবি করেন, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পরওয়ার বলেন, ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং ট্রলি ও জমজমের পানি না পাওয়াসহ নানা অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েছেন।
‘দীর্ঘ সাত-আট ঘণ্টা জার্নি করে একটা লাগেজ পেতে যদি এয়ারপোর্টে চার ঘণ্টা সময় লাগে, তাহলে মেজাজ ঠিক রাখা কি সম্ভব?’ তিনি বলেন।
বিমানমন্ত্রীর সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসত্য।
‘একজন মন্ত্রী বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর সামনে বলেছেন যে উনি (আখতারুজ্জামান) দৈহিকভাবে কাউকে লাঞ্ছিত করেছেন। এটা শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা কথা,’ বলেন তিনি।
পরওয়ার বলেন, ‘মন্ত্রীর শপথের মধ্যে সত্য কথা বলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এমন বক্তব্যের জন্য তার জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’
তিনি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানান।
পরওয়ার বলেন, ‘বিমান মন্ত্রীসহ সিভিল অ্যাভিয়েশন, এয়ারপোর্টের লাগেজ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যারা যারা জড়িত, কার ব্যর্থতায় ট্রলি পাওয়া গেল না, জমজমের পানি খুঁজে পাওয়া গেল না, তিন-চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হলো—সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হোক এবং তাদের ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’
আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে নেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
‘অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত? পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো অপরাধী? উনি কি দুর্ধর্ষ ব্যক্তি?’ প্রশ্ন করেন পরওয়ার।
তিনি বলেন, একজন সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ নাগরিক হিসেবে আখতারুজ্জামানকে এভাবে উপস্থাপন করা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান। আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে জামিন এবং কারাগারে ‘ডিভিশন’ দেওয়ার দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
এলপিজির দাম বৃদ্ধি
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধিরও তীব্র সমালোচনা করেন পরওয়ার।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নতুন করে এলপিজির দাম বাড়ানোয় জনগণের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
‘নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে। এখন নিন্দা না, এটার জন্য ঘৃণা প্রকাশ করি আমরা,’ বলেন তিনি।
অবিলম্বে এলপিজির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘আপনারা কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন। সরকারকে আমরা বলব জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিতে।’
‘সিন্ডিকেট ব্যবসা’ এবং ‘রাজনৈতিক স্বার্থ’কে দাম বাড়ানোর পেছনে কারণ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
‘কোথায় দাম বাড়াবে, কোথায় মেগা প্রজেক্ট দেবে—এসব নানা কায়দায় ইনকামের একটা ব্যবস্থা। এটা আয়-উপার্জনের একটা হাট বানানো হয়েছে, পলিটিক্যাল হাট। সেই হাটের ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে,’ বলেন জামায়াতের এই নেতা।