‘বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো খুব রাগী, আসলে অনেক নরম মনের মানুষ ফারুক’

জাহিদ আকবর
জাহিদ আকবর

ঢাকাই সিনেমার নায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রয়াণ দিবসে এই কিংবদন্তী নায়ককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন আরেক খ্যাতিমান অভিনেত্রী ববিতা। একসাথে দুজনে প্রায় ৪০টি সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন তারা।

স্মৃতিচারণ করে ববিতা বলেন, 'কীভাবে চলে গেল ফারুক ছাড়া একটি বছর! এইতো সেদিন তিনি চলে গেলেন। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু, প্রিয় নায়ক ফারুক এই পৃথিবীতে নাই আমি এটি বিশ্বাস করতে পারি না। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত 'আলোর মিছিল' সিনেমায় তাঁর সঙ্গে ছিল প্রথম অভিনয়। সিনেমায় ছোট একটি চরিত্র ছিল তার। শুটিংয়ে প্রথম হয়েছিল দু'জনার। এরপর কাজ করতে করতে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়।' 

'আমরা প্রায় ৪০টির মতো সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছি। তারমধ্যে কয়েকটি সিনেমা হলো—গোলাপী এখন ট্রেনে', 'লাঠিয়াল', 'মিয়াভাই', 'সূর্য সংগ্রাম 'নয়নমনি', 'প্রিয় বান্ধবী', 'এতিম',' বলেন তিনি।

faruk_0_1.jpg
অভিনেতা ফারুক। ছবি: শেখ মেহেদী মোর্শেদ

চিত্রনায়িকা ববিতা আরও বলেন, '১৯৭৬ সালে "নয়নমনি" সিনেমাটি দেশপ্রেমের সিনেমার মধ্যে ধ্রুপদী হয়ে ওঠে। এই সিনেমায় আমাদের জুটি মানেই বিশেষ কিছু হয়ে ওঠে। মাসের পর মাস সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়েছে। আমাদের অভিনীত সিনেমার প্রেম, বিরহ আজও দর্শকের মনে ভালোবাসার জন্ম দেয়। এখনো সেইসব সিনেমার কথা বলে দর্শক।'

এক বছর আগের কথা স্মরণ করে ববিতা বলেন, 'ফারুক ভাইয়ের মরদেহ যখন দেশে এলো, তখন কানাডায় যাচ্ছি। এ কারণে শেষ দেখাটাও হয়নি, যা আমার জন্য জন্য খুব কষ্টের। তার নায়ক ব্যক্তিত্ব ছিল অনুসরণীয়। তাকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো খুব রাগী, জেদি। আসলে তিনি ভেতরে সেরকম ছিলেন না। অনেক নরম মনের একজন মানুষ ছিলেন। কিছুদিন আগে ফারুক ভাইয়ের ছেলে শরতের বিয়ে হলো। সেখানে গিয়েছিলাম। সবাই ছিল শুধু ফারুক ভাই ছিল না। যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন ফারুক ভাই।'