শাবনূরকে দেখেই নায়িকা হতে চেয়েছি: তমা মির্জা

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

'নদীজন' সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। ক্যারিয়ারে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্ন ধারার গল্পপ্রধান কাজও করেছেন। ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেও দারুণ সাড়া পেয়েছেন। আফরান নিশোর সঙ্গে জুটি বেঁধে পেয়েছেন সফলতা।

গত বছর তার অভিনীত 'দাগি' সিনেমা এবং 'আমলনামা' ওয়েব ফিল্ম দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। নতুন বছরে দুটি নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

দ্য ডেইলি স্টার: নতুন বছরে নিশ্চয়ই নতুন সিনেমার খবর দেবেন?
তমা মির্জা: নতুন দুটি সিনেমার খবর দিতে পারব। সব কথা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। শুটিং শুরুর আগে সব খবর দেব। তখন পরিচালক কিংবা সহশিল্পীর নামও জানা যাবে। এটুকু বলতে পারি, আগামী মাসে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হবে। নতুন চুক্তিবদ্ধ দুটি সিনেমা ছাড়াও আরও কিছু কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে।

নতুন দুটি সিনেমায় আমাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে। গল্পগুলোও ভিন্ন। সব সময় চেষ্টা করি ভিন্নধর্মী কাজের সঙ্গে থাকতে। গ্ল্যামারাস নয়, আমাকে সাধারণত মধ্যবিত্ত চরিত্রেই বেশি দেখা যায়। নতুন বছরের নতুন সিনেমাতেও দর্শক আমাকে নতুনভাবে পাবেন।

দ্য ডেইলি স্টার: এমন কোনো নায়িকা আছেন কি, যার অভিনয় দেখে আপনি নায়িকা হতে চেয়েছেন?
তমা মির্জা: ঢাকাই সিনেমায় কয়েক দশকে অনেক নায়িকা এসেছেন। শাবানা আপা, কবরী আপা, ববিতা আপা—তারা তো কিংবদন্তি। শাবনূর ও মৌসুমী আপা আমাদের সময়ের নায়িকা। দুজনই আমার অনেক প্রিয়। তবে শাবনূরের সিনেমা দেখেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। তার 'আনন্দ অশ্রু', 'চার সতীনের ঘর', 'মোল্লাবাড়ির বউ', 'কে অপরাধী'—আমার অনেক ভালো লাগার সিনেমা।

toma_mirza.jpg
ছবি: সংগৃহীত

দ্য ডেইলি স্টার: নায়িকা হওয়ার জন্য পরিবার থেকে কতটা সমর্থন পেয়েছেন?
তমা মির্জা: সমর্থন পেয়েছি। সত্যি বলতে, শুরুতে পরিবার থেকে বলা হয়েছিল একটিমাত্র সিনেমা করতে। আমিও ভেবেছিলাম, একটা সিনেমা করে দেখি। সেভাবেই জীবনের প্রথম সিনেমায় অভিনয় করি। এরপর মনে হলো, আরও একটা সিনেমা করি যেখানে নিজেকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করা যাবে, মনের মতো কিছু হবে। মূলত একটি ভালো সিনেমার আশায় কাজ চালিয়ে যেতে থাকি। এখনো একটি ভালো সিনেমার অপেক্ষায় আছি। যখন যে কাজটি করি, মনে হয় আরও ভালো করতে হবে। এভাবেই রুপালি পর্দায় বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। তবে এখানে এসে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।

দ্য ডেইলি স্টার: গত বছরের কাজ নিয়ে কতটা খুশি?
তমা মির্জা: অনেক বেশি খুশি। গত বছর 'দাগি' মুক্তি পেয়েছে। আফরান নিশোর সঙ্গে এটি আমার দ্বিতীয় সিনেমা। 'দাগি' সবার প্রশংসা পেয়েছে, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আবার 'আমলনামা' নামের ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেও সবার প্রশংসা পেয়েছি। দুটি কাজে দুই রকম চরিত্র করেছি। 'আমলনামা'য় মায়ের চরিত্রে ছিলাম। বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন মেয়ে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে, তা ফুটিয়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। চরিত্রটির জন্য নিজে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছি। 'দাগি'র জন্য মহড়া করেছি। সব মিলিয়ে দুটি কাজ নিয়েই আমি ভীষণ খুশি।

দ্য ডেইলি স্টার: এখন তো কাজ কম হচ্ছে, কিন্তু প্রতিযোগিতা কেমন?
তমা মির্জা: ঠিকই বলেছেন, এখন কাজ কম কিন্তু প্রতিযোগিতা বেশি। আগে কাজ বেশি ছিল, প্রতিযোগিতাও ছিল। এখন কাজের সংখ্যা কমে গেছে অথচ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তারপরও আমার চাওয়া ভালো কাজ করে যাওয়া। বছরে কম কাজ করব, কিন্তু মানুষ যেন মনে রাখে, তেমন কাজ করব।

দ্য ডেইলি স্টার: প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে মন্তব্য?
তমা মির্জা: জীবনে প্রেম-ভালোবাসার দরকার আছে। যে ভালোবাসা জীবনকে সুন্দর করে, মানসিক শান্তি দেয়, তার প্রয়োজন আছে। কিন্তু যে ভালোবাসা মানসিক শান্তি দেয় না, তার দরকার নেই।