কালবৈশাখী ঝড়ে বগুড়া-নওগাঁর ৭৫০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

মোস্তফা সবুজ
মোস্তফা সবুজ

গতকাল রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে নওগাঁর বদলগাছী ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় সাড়ে সাত শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়।

এর মধ্যে নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭২০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান।

এ ছাড়া, একটি আনসার সেড ভেঙে পরে দুই আনসার সদস্য আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের ঘর মেরামত করার জন্য ঢেউটিন দেওয়া হবে বলেও জানান আশিকুর রহমান।

এ ছাড়া, গতরাত ১০টার পরে কালবৈশাখী ঝড়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ৪-৫টি গ্রামের অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাতাইর ও গড়িয়ারপাড়া গ্রাম।

এই গ্রামের সুমি খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষে নিজ গ্রামে বড় বোন শামীমা বেগমকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শামীমা এগ্রো ফার্ম। গতরাত সাড়ে ১০টার পরে কালবৈশাখী ঝড়ে তার বাড়ি ও ফার্মের চারটি ঘরের টিনের চাল ও সেড উড়ে গেছে বলে জানান সুমি।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এই ফার্মে বিনিয়োগ করেছি। গতকাল হঠাৎ আসা মাত্র ১৫-২০ মিনিটের ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’

‘বৃষ্টির পানিতে ঘরের সব খাবার ও জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। ফার্ম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘উপজেলার ৪-৫টি গ্রাম ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পরিদর্শন করছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের চালা উড়ে গেছে, গাছপালা ভেঙে পড়েছে, ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া, আরও পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

‘আমার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আপাতত ১ বান্ডিল করে ঢেউটিন দিচ্ছি, যাতে তারা বাড়িঘর মেরামত করতে পারেন’, বলেন এই উপজেলা কর্মকর্তা।