ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মৌলভীবাজার, বন্যার আশঙ্কা

মিন্টু দেশোয়ারা
মিন্টু দেশোয়ারা

ভারী বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে মৌলভীবাজারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো। জেলার নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলায় ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪২ মিলিমিটার।

ভারী বৃষ্টিাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তার পার্শ্ববর্তী খাল ও ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমেছে। পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা কাজ না করায় এলাকার অনেক মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রতিবছর একই সমস্যা হচ্ছে। আর কতদিন আমরা এভাবে থাকতে হবে জানি না।’ 

মৌলভীবাজার
ছবি: মিন্টু দেশোয়ারা

সদর উপজেলার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপে কুলাউড়ার গোগালিছড়া বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন ও উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১০০ বিঘারও বেশি জমির ফসল এখন পানির নিচে। পাকা বোরো ধানের পাশাপাশি পানিতে তলিয়ে গেছে আউশের বীজতলা। ভেসে গেছে অনেক মাছের খামার।

জয়চণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামেই প্রায় ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে মাছ চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে কেওলা হাওরের কিছু ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। খারাপ পরিস্থিতিতেও আংশিকভাবে সড়ক যোগাযোগ চালু রয়েছে।’

মৌলভীবাজার
ছবি: মিন্টু দেশোয়ারা

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, জেলার প্রধান চারটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও জুড়ি নদীর পানি বিপদসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মৌলভীবাজারের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, গত ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে জেলাজুড়ে বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২২৫টি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিকল হয়েছে ২৭টি ট্রান্সফরমার। ১৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং ২৩টি খুঁটি হেলে পড়েছে। এতে আনুমানিক মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় অন্তত ৮৫৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সব উপজেলা থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ টন চাল ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’