লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগরে পাহাড়ধসের পৃথক দুটি ঘটনায় দুই পরিবারের পাঁচজনের প্রাণ গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা দুটি ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়ছার হামিদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে পাহাড় ধসের প্রথম ঘটনা ঘটে। এতে এক দম্পতির মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, পরে একই এলাকায় ভোর ৪টায় পাহাড়ধসের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে। এতে আরেক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ তিনজন মাটি চাপা পড়ে মারা যান।
তারা হলেন, মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান। এর আগের ঘটনায় মৃতরা হলেন, মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৫)।
আজিজনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পাহাড় ধসের পর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে জানতে পারেন, পৃথক দুটি স্থানে পাঁচজনের প্রাণ গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনও সেখানে যেতে অনাগ্রহী।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ব্যাহত হওয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে গত রাতে বান্দরবান সদর ইউনিয়নে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া নামক এলাকায় পাহাড়ধসে তিনটি বাড়ি মাটিচাপা পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।