রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা ভাল্বের পরীক্ষা সফল, শুক্রবার আসছে ইউরেনিয়াম

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

নিরাপত্তা ভাল্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের প্রধান সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি পরীক্ষা সফল হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আর তিনটি পরীক্ষা শেষ হলেই ক্রিটিক্যালিটি বা পরমাণু বিক্রিয়া শুরুর ধাপে পৌঁছাবে ইউনিটটি।

আজ বৃহস্পতিবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিকল হয়ে যাওয়া ভাল্ব প্রতিস্থাপনের পর গতকাল বুধবার পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১৬ মেগা প্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে শিগগিরই ১৮ মেগা প্যাসকেল চাপে আরেকটি উচ্চচাপ পরীক্ষা চালানো হবে।

পিওআরভি/পিওএসভি হলো পরমাণু চুল্লির একটি অন্যতম প্রধান সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা প্রাথমিক কুলিং সার্কিটের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে কাঠামোগত ক্ষতি রোধ করে।

গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রাথমিক পিওআরভি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ভাল্ব ঠিকভাবে কাজ না করায় ১ নম্বর ইউনিটকে ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে নেওয়া যায়নি।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ তাপমাত্রা এবং তরলের গতিশীল চাপের মুখে ভাল্বের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের বিন্যাস ঠিকমত কাজ করছিল না।

এ অবস্থায় অকার্যকর ভাল্বগুলো পরিবর্তন করেন তারা। একইসঙ্গে রিঅ্যাক্টরের প্রেশারাইজারে স্থাপিত পিওআরভি ভাল্বের যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধানে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল রূপপুরে পৌঁছায়।

ভাল্ব পরিবর্তনের পর গত মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ—দুই জায়গা থেকেই যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করা হয়।

মো. জাহেদুল হাসান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। এ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভাল্ব এর অপারেশন ও প্রতিক্রিয়াও নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার গতি, অ্যালার্ম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্যারামিটার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।’

অপারেশনের আগে ও চলাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং তেজস্ক্রিয়তা সুরক্ষার শর্তগুলোও পুরোপুরি যাচাই করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ড. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘পরীক্ষাটি অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে করা হয়েছে। কমিশনিং প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

নির্দিষ্ট সময়সীমা বা শিডিউল রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ১৬ মেগা প্যাসকেল চাপের পরীক্ষা সফল হওয়ায় ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে আর মাত্র তিনটি প্রধান পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

এসব পরীক্ষা সফল হলে ১ নম্বর ইউনিট ‘বি-২’ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।

কর্মকর্তাদের মতে, অক্টোবর মাসের মধ্যে বাকি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করা গেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে ইউনিট ১ এর অফিশিয়াল কমিশনিং ধাপ শুরু হয়। ১২ মের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করাসহ ৯০টিরও বেশি মৌলিক সিস্টেম পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক আকাশসীমা সংক্রান্ত বাধা দূর হওয়ায় শুক্রবার থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু করবে রাশিয়া।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম আজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, শুক্রবার দুপুরে ইউরেনিয়াম বহনকারী প্রথম কার্গো ফ্লাইট ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের পরবর্তী চালানগুলো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে পিছিয়ে গিয়েছিল।