এলপিজির মজুদ পর্যাপ্ত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তারপরও খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার অস্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সংশ্লিষ্ট সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজ রোববার বিকেল ৩টায় জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বৈঠকে এলপিজি নিয়ে চলমান সংকট সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। এতে বলা হয়, দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি, জাহাজ সংকট ও কিছু কার্গোর ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে।
আমদানি বৃদ্ধির পরও বাজারে এলপিজি সরবরাহ কমার যৌক্তিক কোনো কারণ পায়নি মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশন ও আমদানিকারকরা জানান, চলতি মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে পারে—এমন ধারণা থেকে খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আজ ঘোষণা করেছে বিইআরসি। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম গত মাসের চেয়ে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কৃত্রিম সংকট বিষয়ে বিবৃতি দেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
