ফরিদপুরে পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কুমিরটি মিঠা নয়, লোনাপানির প্রজাতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে জেলেদের পাতা হাজারশি বড়শিতে আটকা পড়া কুমিরটি মিঠাপানির নয়, বরং এটি লোনাপানির।

আজ সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর চর এলাকা থেকে জেলে স্বপন ব্যাপারির বড়শিতে সরীসৃপটি আটকা পড়ে।

খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা তন্ময় আচার্যের নেতৃত্বে একটি দল আজ বিকেল ৩টার দিকে চরভদ্রাসনের কাজী বাড়ি ঘাটে পৌঁছে কুমিরটিকে উদ্ধার করেন।

তন্ময় আচার্য্য জানান, মিঠাপানিতে পাওয়া গেলেও এটি আসলে লোনাপানির কুমির। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি। এটি একটি পুরুষ কুমির, যার ওজন প্রায় ৭০ কেজি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিক পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে অবমুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেহেতু এটি লোনাপানির কুমির, তাই একে লবণাক্ত পরিবেশেই ছেড়ে দিতে হবে।’

কুমিরটি কীভাবে মিঠাপানিতে এলো—ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘জোয়ার-ভাটার কারণে বা খাবারের অভাবে প্রাণীরা এক আবাসস্থল থেকে অন্যত্র যেতে পারে। মানুষ যেমন খাবার বা আশ্রয়ের জন্য স্থান পরিবর্তন করে, প্রাণীরাও তেমন স্থানান্তরিত হয়। কুমিরটি হয়তো সেভাবেই মিঠাপানিতে এসে পড়েছে।’

‘পদ্মা নদীর এই অংশে কুমিরের নিয়মিত উপস্থিতির কোনো প্রতিষ্ঠিত রেকর্ড নেই। তাই এটিকে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না,’ যোগ করেন তিনি।

কর্মকর্তারা জানান, বড়শিতে টোপ হিসেবে গাঁথা মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরটি সম্ভবত আটকা পড়ে। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কুমিরটির শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল ছিল।