শনির আকাশে রহস্যময় দশকোনা ঢেউ!
শনি গ্রহের দক্ষিণ মেরুর কাছে দেখা গেছে দশকোনার মতো দেখতে এক অদ্ভুত ঢেউ। বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না, কীভাবে তৈরি হলো এই রহস্যময় আকৃতি!
আজ শুক্রবার সায়েন্স আমেরিকানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা শনির দক্ষিণ মেরুর কাছে দশকোনা আকৃতির একটি বিশাল ঢেউ দেখতে পেয়েছেন। এটি কোনো শক্ত বস্তু নয়। শনির বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের প্রবাহের মধ্যেই তৈরি হয়েছে এই অদ্ভুত কাঠামো।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কী কারণে এটি তৈরি হয়েছে, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন।

স্পেনের বিলবাও স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পদার্থবিজ্ঞানী আগুস্তিন সানচেজ-লাভেগা ও তার সহকর্মীরা এই রহস্যময় ঢেউ নিয়ে গবেষণা করেছেন।
পুরোনো ছবি ঘেঁটে তারা দেখেছেন, শনির দক্ষিণ মেরুতে আগে এমন কোনো দশকোনা কাঠামো ছিল না। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযান শনিকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করেছিল। কিন্তু ক্যাসিনির ছবিতেও এর দেখা মেলেনি।
২০২৩ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ছবিতে প্রথম এই কাঠামোটি ধীরে ধীরে তৈরি হতে দেখা যায়। এরপর এটি আরও স্পষ্ট হতে থাকে। ২০২৫ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ছবিতে দশকোনা আকৃতিটি বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়।
এর আগে, শনির উত্তর মেরুতে বিজ্ঞানীরা অনেক আগে থেকেই আরেকটি অদ্ভুত আকৃতির ঢেউ দেখতে পেয়েছেন। তবে সেটি ছয়কোনা!
এই ছয়কোনা কাঠামো শনির দ্রুতগতির বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
তাই প্রশ্ন হলো, উত্তর মেরুতে ছয়কোনা, আর দক্ষিণ মেরুতে দশকোনা কেন? এর উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই।
এই ঢেউ নিয়ে গবেষকেরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা ভাবছেন। শনির বায়ুমণ্ডলে খুব দ্রুতগতির বাতাসের বিশাল স্রোত রয়েছে। এগুলোকে বলা হয় জেট স্ট্রিম।

কোনো জেট স্ট্রিমে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে সেখান থেকে এমন ঢেউ তৈরি হতে পারে। আবার শনির বায়ুমণ্ডলের আরও গভীর কোনো স্তর থেকেও ঢেউটি উঠে আসতে পারে।
কাছাকাছি কোনো বিশাল ঝড়ের প্রভাবও থাকতে পারে। তবে কোন কারণটি আসল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দশকোনা কাঠামোটি স্থায়ী নাও হতে পারে। ছবিতে এর কিছু অংশ বেশ ঝাপসা। অর্থাৎ এটি হয়তো এখনো বদলাচ্ছে।
এমনকি সূর্যের আলো শনির দক্ষিণ মেরুতে কীভাবে পড়ছে, তার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
গবেষকদের ধারণা, ২০৩২ সালের দিকে এই অঞ্চলে সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি পড়লে কাঠামোটির পরিবর্তন আরও ভালোভাবে বোঝা যেতে পারে।
শনির এই দশকোনা ঢেউ তাই কেবল একটি অদ্ভুত দৃশ্য নয়, এটি বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন রহস্য।