শিশুর স্ক্রিন টাইম কমাতে যা করবেন
সন্তানের মোবাইল, ট্যাবলেট কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় নিয়ে অনেক বাবা-মা বিরক্ত। কিন্তু একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, বাবা-মা নিজেও দিনের অনেকটা সময় স্ক্রিনে কাটান।
পরিবারে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার ও প্রতিদিন কতটা সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো উচিত, এ নিয়ে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। কারণ কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা বেশ হয়ে উঠেছে।
সন্তান ও বাবা-মা দুজনেরই স্ক্রিনে সময় কাটানোর অভ্যাস কমিয়ে স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপন গড়ে তুলতে পরামর্শ দিয়েছেন শিশু-শিখন প্রতিষ্ঠান ছায়াতরুর প্রধান নির্বাহী তাহাজ্জুল ইসলাম ফয়সাল।

নিজের আচরণ দিয়ে উদাহরণ তৈরি
তাহাজ্জুল ইসলাম ফয়সালের প্রথম পরামর্শ, সন্তানকে যে কথা বলছেন, নিজের ক্ষেত্রেও তা মেনে চলুন। বাবা-মা যদি সন্তানকে ফোন দূরে রাখতে বলেন, তাহলে নিজেদের ফোন ব্যবহারের অভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
কারণ শিশুরা কেবল বাবা-মায়ের কথা শোনে না, তাদের আচরণও অনুসরণ করে। বাবা-মা কীভাবে মোবাইল বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তার প্রভাবও সন্তানদের ওপর পড়ে।
তার মতে, বাবা-মা যখন নিজেদের আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, তখন পুরো পরিবারের জন্য ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ হয়ে ওঠে।

অকারণে স্ক্রল করা বন্ধ করুন
তাহাজ্জুল ইসলাম ফয়সাল মনে করেন, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে আমরা অনেক সময় কাছের মানুষ ও বাস্তব জীবনের মুহূর্তগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। একইসঙ্গে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক খবর, ভিডিও বা পোস্ট দেখতে থাকাকে বলা হয় ‘ডুমস্ক্রলিং’। এর ফলে উদ্বেগ, অসহায়ত্ব, একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের ওটুর একটি জরিপেও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক এবং এর মানসিক ও আবেগীয় প্রভাব নিয়ে অনেকের সচেতনতার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ২০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বা এর প্রভাব নিয়ে তারা কখনো ভাবেন না।

পরিবারের জন্য স্ক্রিনমুক্ত সময়
তাহাজ্জুল ইসলাম ফয়সালের মতে, পরিবারে এমন কিছু সময় থাকা দরকার, যখন কেউ মোবাইল, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের সামনে থাকবে না। সেই সময়টা পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাটাতে পারেন।
তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়ে পার্কে যাওয়া যেতে পারে, একসঙ্গে রান্না করা, ছবি আঁকা কিংবা অন্য কোনো মজার কাজ করা যেতে পারে। অর্থাৎ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার বদলে পরিবারের সবাই মিলে এমন কিছু করা দরকার, যেন একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো যায়।
তিনি বলেন, বর্তমানে সন্তানদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
তিনি পরামর্শ দেন, স্ক্রিন টাইম কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হতে পারে, কেবল সন্তানকে ফোন থেকে দূরে রাখা নয়, বরং বাবা-মাকেও নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া। পরিবারের সবাই মিলে কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকলেই গড়ে উঠতে পারে আরও স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস।

