আইসিইউ-ওটির মতো ৫ জরুরি সেবা চালাতে বাড়তি জ্বালানি চাওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি জ্বালানি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ এমন একটা জিনিস, সারা বিশ্বব্যাপী এটা নাড়া দিয়েছে। কারণ বিশ্ব চলছে তেলে, সেই জ্বালানি তেল যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকে...আমাদের কোথায় কোথায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ প্রয়োজন—ওতে (অপারেশন থিয়েটার) দরকার, আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) দরকার, সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) দরকার, বেবি কেয়ার ওয়ার্ডে দরকার, লেবার রুমে দরকার।’
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বাড়তি মজুত রাখার জন্য আমরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করেছি। আমরা জন্য সেই মজুত রাখা হবে। এরপরও যদি জ্বালানি সংকট হয়, ডিজেলের মজুত বাড়িয়ে আমরা জেনারেটর রাখছি। দুটি করে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইট টানা হচ্ছে, একটি লাইনে না পেলে যেন আরেকটি থেকে অন্তত ওই পাঁচটি রুমে আমরা বিদ্যুৎ দিতে পারি।’
হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘যাতে বিদ্যুতের ঘাটতিটা কম হয়। যাতে করে জেনারেটরের ওপর আমাদের নির্ভরশীল না হতে হয়।’
হিলিয়াম গ্যাসের কোনো অসুবিধা নাই, পর্যাপ্ত মজুত আছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরও আমরা প্রস্তুত আছি। অন্য মাধ্যমে আমদানি করার ব্যবস্থা রেখেছি, আমরা কাজ শুরু করেছি।’
সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একদল মোটরসাইকেলচালক তেল নিয়ে নিয়ে গিয়ে মজুত করছে পরে বেশি দামে বিক্রি করবে বলে। ফেব্রুয়ারি মাসে মোট যে পরিমাণ জ্বালানি বিভিন্ন পাম্পে সরবরাহ করা হয়েছে, মার্চ মাসে এ পর্যন্ত তার চেয়ে অনেক বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, দুপুর ১২টা-১টার পরে কোনো তেল নেই। মানে এখান থেকে নেয়, ওখান থেকে নেয়, সমস্ত পাম্পে পাম্পে ঘুরে যারা খারাপ লোক তারা এগুলো করে জাতিকে কষ্ট দিচ্ছে। মানুষের জন্য তাদের কোনো ভালোবাসা নেই।’
গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা কামনা করে সাখাওয়াত বলেন, ‘আপনারাই পারেন। এই যে দেখেন, আমি যেটুকু পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যসেবা খাতে—ভালো কাজ তো এখনো করতে পারিনি, যেটুকু পর্যন্ত চেষ্টা করছি আপনাদের সাহায্য নিয়ে। আপনারা সহযোগিতা করুন।’
হাম মহামারি আকার নিতেও পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আট বছর আগে মিসেলসের (হামের টিকা) দেওয়া হয়েছে, তারপর কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। হামসহ সব টিকা আনার জন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা দিয়েছি। ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির গত বৈঠকে পাস হয়েছে, আমরা আনার ব্যবস্থা করছি।
যেহেতু হাম বন্ধ হয়েছে, এখন তো টিকা দিলে এটা বন্ধ হবে না। আমরা বিভাগ অনুসারে, মানিকগঞ্জে আইসিইউ খুলেছি, যাতে পদ্মার ওপাড়ের রোগী আসলে ওখানে রাখতে পারি। রাজশাহীতে (আইসিইউ) সচল করা হয়েছে, প্রত্যেকে বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে (আইসিইউ চালু) করা হচ্ছে।
করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিএনসিসির হাসপাতালে দুটি ওয়ার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘গত দিয়েছি ২০ জন ডাক্তার, আজকে দেবো আরও ৪০ জন ডাক্তার। ওখানে আইসিইউ স্টার্ট করেছি। পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ চালু করা হয়েছে।’
আরও ছয়টি ভেন্টিলেটর দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা হয়েছে। বেসরকারি খাতের মানুষ এগিয়ে আসছেন।