স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ২ সচিব নিয়োগ, দুই বিভাগের একীভূতকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ একীভূত করার সরকারি সিদ্ধান্তের পর এক বছর ধরে এ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছিল একজন সচিবের অধীনে।

কিন্তু, আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবার দুই সচিবকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আ ন ম বজলুর রশিদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

দুই বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করা কামরুজ্জামান চৌধুরীকে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগকে একীভূত করার অনুমোদন দেয়।

এর প্রায় ৮ মাস পর মন্ত্রণালয়ে দুই সচিব নিয়োগ দেওয়া হলো।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুজন অতিরিক্ত সচিবের মতে, নিকারের সিদ্ধান্তের পর পদ সৃষ্টি ও দায়িত্ব বণ্টনসহ বিভাগ দুটিকে একীভূত করার কাজ ধীর গতিতে হলেও চলমান ছিল।

তবে নতুন দুই সচিব নিয়োগের পর মন্ত্রণালয় একীভূতকরণ প্রক্রিয়া থমকে যাবে নাকি, চালু থাকবে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব পদ থেকে সারওয়ার বারী অবসরে গেলে সরকার তার শূন্যপদে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়নি।

সে সময় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, একীভূত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি প্রি-নিকার কমিটি গত বছরের ২৯ অক্টোবর এক বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে দুটি বিভাগকে একীভূত করার সুপারিশ করে। 

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি নিকারের বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

একীভূতকরণ নাকি পৃথক বিভাগ

যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, একীভূত করার প্রক্রিয়া এখনো চলছে এবং নিকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমার ধারণা একীভূতকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুই বিভাগের কাজের ব্যাপকতা ও চলমান প্রকল্পগুলো সামলাতে সাময়িক সমাধান হিসেবে ২ সচিবকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।'

তবে আরেক অতিরিক্ত সচিব বলেন, দুই বিভাগ একীভূত করতে নিকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এখনো অনেক কাজ বাকি।

তিনি আরও বলেন, 'দুই সচিবের নিয়োগ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত কার্যকর নাও হতে পারে।'

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের জন্য ২০১৭ সালের মার্চে তৎকালীন সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করেছিল। এগুলো হলো—স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পুনর্গঠন করে দুজন সচিবের নেতৃত্বে দুটি বিভাগের অধীনে নেওয়া হয়।

পরে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, দুটি বিভাগ করে কোনো লাভ হয়নি, বরং এর কারণে সমন্বয়হীনতা বেড়েছে এবং কাজের পুনরাবৃত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কয়েকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দুটি বিভাগকে পুনরায় একীভূত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

তাদের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুটি বিভাগ ছিল। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে রাখা হয়। আর কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে আনা হয়।

একইভাবে, মেডিকেল কলেজগুলোকে রাখা হয় চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে, আর কলেজগুলোর হাসপাতাল অংশকে রাখা হয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণেই সমন্বয়হীনতা ও একই কাজের পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল।

এখন নতুন করে দুই সচিব নিয়োগের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগগুলোকে একত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান অবস্থা ও সময়সীমা নিয়ে এবং অনুমোদিত পুনর্গঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই বিভাগ আলাদাভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছে না।