শান্তি আলোচনায় অনড় অবস্থানে রাশিয়া-ইউক্রেন, অগ্রগতি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই দিনব্যাপী শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতির দাবি করলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো সুস্পষ্ট সংকেত দেয়নি ইউক্রেন ও রাশিয়া।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বুধবার জেনেভায় দ্বিতীয় দিনের বৈঠক মাত্র দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যদিও মঙ্গলবারের বৈঠক ছিল ৬ ঘণ্টার।
আলোচনার বিষয়বস্তু বা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে রাশিয়া ও ইউক্রেন কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, আলোচনা জটিল ছিল।
রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেদিনস্কি এ আলোচনাকে ‘কঠিন কিন্তু পেশাদার’ উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলোচনা দীর্ঘায়ত করার চেষ্টা করছে।
আলোচনা চলার মধ্যেই রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার বার ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ন্যায়সংগত নয় বলে দাবি করেন জেলেনস্কি।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার হাতে বিজয় তুলে দিলে শান্তি আসবে না।’
তবে প্রথম দিনের আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারী মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ‘চলমান আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’
বুধবার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য জানা যায়নি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূখণ্ড ইস্যুতে এখনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি মস্কো ও কিয়েভ। মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের দনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ে। রাশিয়া এই অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে এবং হুমকি দিয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমে এটি না পেলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে তারা।
অন্যদিকে মস্কোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে কিয়েভ জানায়, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার মতো নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া কোনো চুক্তিতে সই করবে না তারা।
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকী পূর্ণ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে দু’দিনব্যাপী এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।