অবশেষে চিকিৎসা পেলেন ইমরান খান
অবশেষে পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চিকিৎসা পেয়েছেন। ইসলামাবাদের পিমস হাসপাতালে তার চোখের চিকিৎসা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।
চোখের চিকিৎসার জন্য ইমরানকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে তার চোখে ‘দ্বিতীয় ডোজের’ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল জানিয়েছে, চিকিৎসার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি বোর্ড তাকে পরীক্ষা করেন। সেখানে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইমরানের ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয়।
উভয় পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফল পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘ইমরানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ইমরানকে ২৪ জানুয়ারি একই হাসপাতালে ’২০ মিনিট’ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে কারাগারে বন্দী আছেন ইমরান। ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি ৭৩ বছর বয়সী নেতার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবী অভিযোগ করেন, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারাতে বসেছেন ইমরান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উপদেষ্টা সায়েদ জুলফিকার বুখারি দাবি করেন, ইমরানকে তার ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের’ সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া উচিৎ।’
গত সপ্তাহে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইসলামাবাদের সরকারকে ‘সুষ্ঠু’ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইমরানের আইনজীবী সালমান সাফদার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ‘ইমরানের ডান চোখ মাত্র ১৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।’
ইমরানের ছেলে কাসিম খান জানান, ‘আটক অবস্থায় চিকিৎসায় অবহেলার’ কারণে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল, সেনাপ্রধান ও তাদের হাতের পুতুলরা এসব নির্দয় আচরণের জন্য দায়ী।’
২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান এই জনপ্রিয় নেতা।
এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা দায়েরের হিড়িক পড়ে।
ইমরান ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করে, এসব মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরানকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ।
বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করে সরকার।
