‘মোজতবা খামেনির বক্তব্যে ইরানের নীতি বদলের ইঙ্গিত নেই’
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রথম বক্তব্যে দেশটির নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজ বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির বক্তব্য প্রচারের পর সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক অধ্যাপক রব গেইস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে বলেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি।’
তার মতে, বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত চায় না, ইরান পিছু হটতে চায় না এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে।
পিনফোল্ড বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো আশা করেছিল নতুন সর্বোচ্চ নেতার ভাষণে নীতিগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে আগের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।’
এদিকে দেশটির নির্বাসিত বিরোধী সংগঠন ইরানের জাতীয় প্রতিরোধ পরিষদ এনসিআরআইয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, নতুন ইরানি নেতা তার বাবার মতো কর্তৃত্ববাদী নন, তিনি বিপ্লবী গার্ডের ওপর নির্ভরশীল।
এনসিআরআইয়ের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোহাদ্দেসিন এএফপিকে বলেন, ‘বংশীয় রাজতন্ত্র চালু করেছেন নতুন ইরানি নেতা।’
মোহাদ্দেসিনের দাবি, বহু বছর ধরে মোজতবা খামেনি তার বাবার কার্যালয়ের আড়ালে থেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখতেন।
তার মতে, মোজতবা কার্যত তার বাবা আলি খামেনির ডেপুটি হিসেবে কাজ করতেন, যদিও তার বাবা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ডই মূলত মোজতবা খামেনির পেছনের প্রধান শক্তি এবং তারাই ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ পরিষদকে চাপ দিয়ে তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অনুমোদন করিয়েছে।’
এ প্রক্রিয়ায় শাসনব্যবস্থার ভেতরেও মতবিরোধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

