অনিবার্য কারণে এলএনজি সরবরাহে অক্ষমতার ঘোষণা দিয়েছে কাতারএনার্জি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের নিরবচ্ছিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বড় আকারে ক্ষতির শিকার হয়েছে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা। এর মূল ভুক্তভোগী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। 

গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি আশংকা প্রকাশ করেন, কাতারএনার্জি অনিবার্য কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতার ঘোষণা দিতে বাধ্য হতে পারে। 

আজ এসেছে সেই ঘোষণা। 

রয়টার্সকে আজ মঙ্গলবার কাতারএনার্জি জানিয়েছে, তারা কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনিবার্য কারণে চুক্তি পালনে অক্ষমতার ঘোষণা দিয়েছে। 

এই তালিকায় ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনসহ অন্যান্য দেশও রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সাদ আল-কাবি জানান, ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার ১৭ শতাংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।

কাতার এনার্জির সিইও সাদ আল কাবি। ছবি: রয়টার্স
কাতার এনার্জির সিইও সাদ আল কাবি। ছবি: রয়টার্স

 

তার মতে, কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় হামলায় বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপ ও এশিয়ায় এলএনজি সরবরাহে বড় বাধা এসেছে। 

বিশেষত, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তির শর্ত পূরণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত দেন তিনি।  

বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নামে একটি বিষয়ের উল্লেখ থাকে। 
নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে চুক্তির শর্ত পূরণ করতে না পারলে চুক্তি পূরণকারী পক্ষ ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা দেন। 

সে ক্ষেত্রে অপর পক্ষ ‘চুক্তিভঙ্গের’ অভিযোগ তুলতে পারে না, কারণ ‘অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা’ কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

রাস লাফান শিল্প এলাকায় কাতারএনার্জির এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স
রাস লাফান শিল্প এলাকায় কাতারএনার্জির এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স

 

এ ধরনের কারণের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু বা বড় ধরনের সংকট অন্তর্ভুক্ত। 

গত সপ্তাহে ইরানের জ্বালানি খাতের তিন কর্মকর্তা জানান, দেশটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আওতায় থাকা সব তেলের খনির ক্ষেত্রে ফোর্স ম্যাজিউর ঘোষণা দিয়েছে।