নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার
নেপালের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খাড়কাকে আজ রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানোয় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের একদিন পর এই ঘোষণা এলো।
সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর মুখপাত্র শিব কুমার শ্রেষ্ঠ এএফপিকে বলেন, অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় আজ সকালে খাড়কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, নেপালের অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ এই তদন্তের তত্ত্বাবধান করবে।
নব্যনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেসবুকে লেখেন, আন্দোলনের সময় খাড়কার বাসভবন থেকে উদ্ধার করা অর্থের তদন্তের প্রেক্ষিতে তাকে আজ আটক করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা দুর্নীতি আর আর্থিক অনটনের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।
আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দমন-পীড়নে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন।
আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবন ও সরকারি দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত অলি সরকারের পতন ঘটান।
খাড়কার বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা তার বাড়িতে পাওয়া টাকা বাতাসে ছুড়ে মারছেন।
অভ্যুত্থানের পর নেপালে চলতি মাসে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।
দলটির নেতা, র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বালেন্দ্র শাহ গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সরকার শনিবার সুশাসন সংস্কারের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী ১০০-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রাজনীতিবিদ এবং উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের সম্পদ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই দিনে অলি ও লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা তদন্ত কমিশন এর আগে সুপারিশ করেছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ থামাতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় অলি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার দায়ে বিচার হওয়া উচিত।
তবে গ্রেপ্তার অলি ও লেখক বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।