শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা
পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মধ্যেই গতকাল বুধবার রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী নিহত হয়েছেন।
গতকাল রাতে চন্দ্রনাথ রথ নামে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
দ্য হিন্দুর খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, জেলার মধ্যমগ্রাম এলাকায় অত্যন্ত কাছ থেকে (পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ) চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি চালানো হয়। হামলাকারীরা মোটরবাইকে করে এসেছিল বলে জানা গেছে, তবে তাদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় নিহত ব্যক্তি একটি চারচাকা গাড়িতে ছিলেন।
এর আগে ওই দিনই সকালেই শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারীসহ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা দলীয় সমর্থকদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় আরও অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ টাউনে একটি বিজয় মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মারধরে বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল নিহত হন।
একই দিনে বীরভূমে বিজেপি কর্মীদের হাতে তৃণমূল কর্মী আবীর শেখকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। হাওড়াসহ আরও কয়েকটি জায়গায় সহিংসতার কারণে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ এখনও তা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব, ডিজিপি এবং রাজ্যে মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা ও ভাঙচুরে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর পাশাপাশি রাজ্যে সহিংসতায় নিহত নিজেদের দলীয় কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাতেও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালতের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) তদন্তসহ কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যেন দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সহিংসতা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো স্থান নেই; এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের দ্রুত আইনের মুখোমুখি করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।