‘ইরান যুদ্ধ’ শেষ হয়নি, ইউরেনিয়াম সরাতেই হবে: নেতানিয়াহু

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের হাতে আছে প্রায় ৪০ কেজির মতো ‘সমৃদ্ধ’ ইউরেনিয়াম। পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর উপকরণ এটি। যদিও ইরানের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প শুরু করেছিল। 

ইরানের সেই ‘সমৃদ্ধ’ ইউরেনিয়াম কোথায় যাবে—এই প্রশ্ন এখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তেহরানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তাব দিয়েছেন, মস্কো ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।

এবার সেই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

তিনি দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ‘সরিয়ে নিতে হবে’। এই উদ্যোগ সফল না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে—এমনটা বলা যাবে না।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

সিবিএস নেটওয়ার্কের ‘সিক্সটি মিনিটস’ নামের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটা (যুদ্ধ) এখনো শেষ হয়নি, কারণ এখনো সেখানে পারমাণবিক উপকরণ আছে—সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউরেনিয়াম—এটাকে ইরান থেকে বের করে আনতে হবে। এখনো সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র আছে, যেগুলো অকেজো করে দিতে হবে’। 

কীভাবে এই ইউরেনিয়াম সরানো হবে, সে প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি নেতা বলেন, ‘সেখানে (ইরানে) গিয়ে  (ইউরেনিয়াম) বের করে নিয়ে আসতে হবে।’

নেতানিয়াহু জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন্তাও একই ধারায়। 

‘আমি সেনা ব্যবহারের বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে বলেছেন, তিনি সেখানে যেতে চান’, যোগ করেন তিনি। 

তবে জনসম্মুখে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মেলে না। 

ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবল চাপের মুখে আছেন ৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা। তিনি বরাবরই বলে আসছেন, তেহরানের পরমাণু প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।  

রোববার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মত দেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে ইরানের পরাজয় ঘটেছে’। 

তিনি আরও জানান, ‘যখনই ইচ্ছা হবে, তখনই আমরা ওই ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনতে পারবো’।

শারিল অ্যাটকিসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা কোনো এক পর্যায়ে হাতে পাব। যখনই আমরা চাইবো।'

‘আমাদের বিষয়টি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। যদি কেউ ওই অবস্থানের কাছে যায়, তাহলে আমরা সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবো, এবং আমরা তাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেব’, যোগ করেন ট্রাম্প। 


ইরান থেকে ইউরেনিয়ামের মজুদ কিভাবে সরানো হবে, সিবিএসের এই প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার পছন্দ একটি চুক্তি।’ 

‘চাইলে জোর খাটিয়ে নিয়ে আসা যাবে। সেটা কোনো সমস্যা নয়। তবে যদি একটি চুক্তির মাধ্যমে সেখান থেকে জিনিসটা বের করে আনা যায়, তাহলে কেন নয়? এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়’, যোগ করেন তিনি। 

লুকিয়ে রাখা ইউরেনিয়াম বের করে আনার জন্য সামরিক অভিযান চালানো হবে কী না, এ প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, সম্ভাব্য পরিকল্পনা বা এ ধরনের কোনো কিছু নিয়ে কোনো কথা বলবো না আমি।’ 

‘আমি এর জন্য কোনো সময়সীমা বেধে দিচ্ছি না। তবে আমি এটুকু বলবো যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযান হবে’, মত দেন নেতানিয়াহু।   

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি ছাড়াও চলমান যুদ্ধের আরও বেশ কয়েকটি লক্ষ্যপূরণ হতে বাকি আছে বলে মত দেন নেতানিয়াহু।  

তিনি বলেন, ‘এখনো অনেক গোষ্ঠী ইরানের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করতে চায় না। আমরা অনেকাংশেই তাদের সেই উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে আনতে পেরেছি। কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি নিঃশেষিত হয়নি এবং আরও অনেক কাজ বাকি আছে।’