ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল আরব আমিরাত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
গত মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশটির সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা প্রথমবার জানা গেল। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের লাভান দ্বীপের একটি শোধনাগার।
কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলা শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আমিরাতের এই হামলাকে নীরবে স্বাগত জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধে অংশ নিতে আগ্রহী অন্য যেকোনো উপসাগরীয় দেশের প্রতিও তাদের নীরব সমর্থন ছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই হামলার খবর এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়ের কথা উল্লেখ করেনি।
তবে ৮ এপ্রিল সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছিল যে, ইরানের লাভান দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলার কয়েক ঘণ্টা পর আরব আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ওই সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, সকাল ১০টায় লাভান দ্বীপের স্থাপনাটি একটি 'কাপুরুষোচিত হামলা'র শিকার হয়।
যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওই একই দিনে আরব আমিরাত জানায়, তাদের ওপর ১৭টি ইরানি মিসাইল ও ৩৫টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
ওই দিন সকালেই কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনকেন্দ্র এবং তেল স্থাপনাগুলোতে বৃষ্টির মতো হামলা হচ্ছে। এই ঘটনা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ইআইএর তথ্যমতে, হামলার শিকার শোধনাগারটি ২০২০ সাল নাগাদ ইরানের দশম বৃহত্তম ছিল এবং এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল, তা প্রায় ছয় সপ্তাহ চলার পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে।