‘স্বাধীন’ তাইওয়ানের যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রেসিডেন্ট
‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ বলতে দ্বীপটি বেইজিংয়ের অংশ নয় এবং চীনের অধীনও নয়—এমনটাই বোঝায় বলে মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।
তিনি বলেন, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু দেশটির জনগণেরই রয়েছে।
আজ রোববার তাইপেতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে লাই এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকের পর তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বেইজিং সফরের পর ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই না কেউ বলুক যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিচ্ছে, তাই আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে যাচ্ছি।’
গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। দ্বীপটিকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ থেকেও তারা সরে আসেনি, বিশেষ করে যদি চীন মনে করে তাইওয়ান আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে।
বক্তব্যে লাই বলেন, তার দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি ১৯৯৯ সালে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যা এখনও দলটির নীতির অংশ। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, তাইওয়ান ইতোমধ্যেই ‘রিপাবলিক অব চায়না’ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
তিনি বলেন, ‘সরকার বিশ্বাস করে যে, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব খর্ব বা দখল করা যাবে না এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এখানকার জনগণ।’
লাই বলেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো—তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অংশ নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো রিপাবলিক অব চায়না এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন একে অপরের অধীন নয়।’
তবে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের গৃহযুদ্ধে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে ১৯৪৯ সালে রিপাবলিক অব চায়না সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। পরে কমিউনিস্টরা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা করে।
লাই বলেন, ‘তাইওয়ান ছাড়া রিপাবলিক অব চায়নার অস্তিত্ব নেই।’ তিনি উল্লেখ করেন, রিপাবলিক অব চায়নার ভূখণ্ডের মধ্যে তাইওয়ান প্রণালির পেংহু দ্বীপপুঞ্জ এবং চীনের উপকূলসংলগ্ন কিনমেন ও মাতসু দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, ‘খুব স্পষ্টভাবে বলা যায়, রিপাবলিক অব চায়না গত ৭০-৮০ বছর ধরে তাইওয়ানে রয়েছে এবং এখন এটি তাইওয়ানের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।’
লাই আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের রিপাবলিক অব চায়না, রিপাবলিক অব চায়না-তাইওয়ান বা তাইওয়ান—যাই বলি না কেন, মূলত আমরা তাইওয়ান, পেংহু, কিনমেন ও মাতসুর ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষকেই বোঝাই।’
তবে বক্তব্যে তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেননি।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিত্র। তবে বেইজিং সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প বলেন, তাইওয়ানের কাছে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। যদিও ১৯৭৯ সালের ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের এমন সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
