‘মোদি কেন সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেন না?’ প্রশ্ন করে তোপের মুখে নরওয়ের সাংবাদিক

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করা এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিকের প্রশ্ন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ে সফরে সাংবাদিক হেলে লিং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেন না। পরে তিনি মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

চলতি সপ্তাহে দুই দিনের সরকারি সফরে নরওয়ের রাজধানী অসলো যান মোদি। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে দুই নেতা চলে যাওয়ার সময় সাংবাদিক হেলে লিং বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের একটি দেশের সাংবাদিকদের কাছ থেকে আপনি প্রশ্ন নিচ্ছেন না কেন?’

তবে মোদি কোনো জবাব দেননি।

পরে নরওয়েতে ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে লিং প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কেন ভারতকে বিশ্বাস করব? আপনার দেশে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, তা বন্ধে কি উদ্যোগ নেওয়া হবে?’

জবাবে জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কূটনীতিক সিবি জর্জ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। তারা কিছু অখ্যাত ও অজ্ঞ এনজিওর প্রতিবেদন পড়ে এসে প্রশ্ন করতে শুরু করে। আমরা গণতন্ত্র নিয়ে গর্বিত।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি কখনো প্রচলিত অর্থে একক সংবাদ সম্মেলন করেননি। বিদেশ সফরেও তিনি খুব কমই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

ঘটনার পর হেলে লিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রলিংয়ের মুখে পড়েন। ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী তাকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ ও ‘গুপ্তচর’ বলে আখ্যা দেন। কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও তার আচরণের সমালোচনা করে।

তবে বিবিসি হিন্দিকে লিং বলেন, ‘কনফ্রন্টেশনাল জার্নালিজম এভাবেই কাজ করে। আপনাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং উত্তর বের করার চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম, প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রশ্ন নিতে পছন্দ করেন না। কিন্তু প্রশ্ন করা আমার দায়িত্ব।’

পরে লিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারতীয় দূতাবাস পরে তার পোস্ট শেয়ার করে তাকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়।

সেখানে লিং বলেন, তার প্রশ্নগুলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ১৫৭তম। নরওয়ে এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।