যুদ্ধ অবসানে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে চান জেলেনস্কি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।

আজ শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে। 

খোলা চিঠির মাধ্যমে পুতিনকে বৈঠক করার আহ্বান জানান জেলেনস্কি। 

এ সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন রুশ নেতা পুতিন। 

এর একদিন আগেই একই শহরে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। 

চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা সবাই দেখতে পাচ্ছি, রুশ নাগরিকরা ধীরে ধীরে এই (যুদ্ধকালীন) বাস্তবতায় অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেছে। যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য ক্রমেই আরও বেশি নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনছে। আপনার এই যুদ্ধের কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না—এটাও তারা পছন্দ করছে না।’

‘পুতিন বারবার ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে নেওয়ার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। আবার তা খেয়ালখুশি মতো পিছিয়ে দেন’, অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। 

বিশেষ করে দনেৎস্ক অঞ্চল দখলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ বছরও আপনি এটা দখল করতে পারবেন না।’

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায় বসে থাকার কোনো অর্থ হয় না—এমন মত দেন ইউক্রেনের নেতা। 

‘আমরা দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন পুরোপুরি ইরান ইস্যুতে। ইউরোপের যুদ্ধ আবার কবে তাদের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসে, এটার জন্য বসে থাকা ভুল’, যোগ করেন তিনি।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি।’

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈঠকটি কোনো তৃতীয় দেশে হতে পারে এবং এর জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি আলোচনার সময় পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, জেলেনস্কির চিঠি ক্রেমলিনের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করা হবে।

ইতোমধ্যে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, জেলেনস্কি যদি পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে তিনি মস্কোতে আসতে পারেন।

তবে জেলেনস্কি চিঠিতে পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, তার মস্কো সফরের প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে এজন্য উভয় পক্ষকেই সমঝোতায় আসতে হবে।

পুতিন বলেন, ‘আমরা মূলত এসব সমঝোতায় রাজি হয়েছি। এখন শুধু ইউক্রেনীয় পক্ষকে রাজি করাতে হবে। সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি, এগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তির ভিত্তি হতে পারে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।’