৩৯ দেশের অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন নীতি বাতিল করলেন আদালত
বিশ্বের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা একাধিক নীতি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রায়ে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) যে নীতিগুলো গ্রহণ করেছিল, তা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, ইউএসসিআইএসের এসব নীতির কারণে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত সব আবেদন স্থগিত হয়ে যায়। তারা আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাচ্ছিলেন না।
রায়ে আরও বলা হয়, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু ইউএসসিআইএস আইন মেনে চলেনি এবং সঠিক প্রক্রিয়াও অনুসরণ করেনি। বরং সংস্থাটি সেই অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেছে, যার বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত।
বিচারক জন ম্যাককনেলের মতে, অভিবাসীরা ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত বিধি ও আইন অনুসরণ করেই আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সংস্থাটি তাদের আবেদন নিষ্পত্তি না করে মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রেখেছিল।
ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের প্রভাব ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।
গত মার্চে ইউএসসিআইএসের এসব নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে অভিবাসী সহায়তাকারী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
এ রায়কে বড় বিজয় হিসেবে দেখছে তারা।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী স্কাই পেরিম্যান বলেন, ‘মানুষের জন্মস্থান বা জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করার কোনো অধিকার মার্কিন সরকারের নেই।’
২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলির ঘটনার পর অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে ট্রাম্প প্রশাসন।
একইসঙ্গে আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়াসহ মোট ৩৯ দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদন কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
ওই গুলির ঘটনায় আফগান বংশোদ্ভূত অভিবাসী রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে দায়ী করেছেন প্রসিকিউটর।
ঘটনার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘মার্কিন সিস্টেমকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে।’
প্রশাসনের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।