সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠান হচ্ছে না, হরমুজ নিয়ে যা জানালেন শাহবাজ শরিফ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে এ চুক্তিতে সই করেছেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

এএফপি ও ডনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

তিনি জানান, পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ডিজিটালভাবে চুক্তিতে সই করায় সুইজারল্যান্ডে আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।

শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সই করেছেন। তিনি নিজেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এতে অনুমোদন দিয়েছেন।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প স্মারকটিতে সই করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সবে সই করলাম।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দলিলটি চূড়ান্ত হয়েছে।

শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ট্রাম্পের অঙ্গীকার এমন একটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে, যা এই অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত।

তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনারের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

এ ছাড়া, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং দেশটির আলোচক দলের সদস্য মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, আব্বাস আরাগচি ও এসকান্দার মোমেনির ভূমিকাও তুলে ধরেন।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল ছাড়ে সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা খসড়া অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ঘনত্ব কমাবে। এ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে দেশটির ভেতরেই সম্পন্ন হতে পারে।

চুক্তির লক্ষ্য হলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই সংঘাতের জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে।