কিয়ের স্টারমার পদত্যাগ করবেন: ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

গত কয়েকদিন ধরেই বাতাসে জোর গুজব, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সেই গুজবের আগুনে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ রোববার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ঘোষণার সুরে ট্রাম্প জানিয়েছেন। ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদত্যাগ করবেন’। 

এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। 

ট্রুথ সোশালে এ ধরনের ‘বোমা’ এর আগেও ফাটিয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ঘোষণা দেওয়া, সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সম্মতির আগেই সে বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা—ট্রাম্পের ট্রুথ সোশাল প্রোফাইলে এ ধরনের অসংখ্য পোস্ট দেখা যায়। 

আজকের পোস্টে তিনি এককালের ঘনিষ্ঠ মিত্র স্টারমারকে ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা জানাতেও ভুলেননি। 

ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের পোস্ট

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার পদত্যাগ করবেন। আমি তাকে শুভ কামনা জানাই।’ 

এর আগে যুক্তরাজ্যের একাধিক গণমাধ্যমে স্টারমারের আসন্ন পদত্যাগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে সমর্থন না জোগানোয় স্টারমারের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। 

রোববারের পোস্টে দুইটি ইস্যুতে স্টারমারের সমালোচনা করেন ট্রাম্প—সীমান্ত নিরাপত্তা ও জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ব্যবস্থাপনা।  

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় রেখেছেন—অভিবাসন ও জ্বালানি।’

অভিবাসনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাজ্য অবাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের তীরবর্তী উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। 

ষাটের দশক থেকে যুক্তরাজ্যের তেল-গ্যাস আহরণের বড় উৎস উত্তর সাগর। 

An Equinor offshore oil drilling platform in the North Sea, on Monday, Feb. 13, 2023. The UK government has just given Equinor the green light to develop a huge oil and gas field near Shetland in Scotland.
উত্তর সাগরে তেল আহরণ। ছবি: রয়টার্স

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুরনো ও বাতিল হয়ে পড়া তৈলকূপগুলো আর চালু না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। মূলত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানিতে নজর দিতেই এই সিদ্ধান্ত। 

বিশ্লেষকদের মত, উত্তর সাগরে তেল-গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এলে হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।