পদত্যাগের ঘোষণার পর স্টারমারকে এক হাত নিলেন ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পরই তার দিকে একগাদা অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। 

স্টারমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার বেশ খানিকটা আগেই তার পদত্যাগের খবর বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেন ট্রাম্প। 

ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে জানান, ‘স্টারমার পদত্যাগ করবেন। আমি তাকে শুভ কামনা জানাই’। 

ওভাল অফিসের এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি একজন চমৎকার মানুষ’। 

তবে দ্রুত সুর পালটে ফেলেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের জ্বালানী নীতি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হন তিনি।

বিশেষত, উত্তর সাগর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলনে ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত দেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য তাদের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে অন্যদের থেকে। আপনারা কি জানেন এটা কোথা থেকে আসে? নরওয়ে থেকে আসে।নরওয়ে তার জ্বালানি কোথা থেকে পায় জানেন? সেই উত্তর সাগর থেকে।’

‘কিন্তু উত্তর সাগরের আরও উন্নত অংশ যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—কিন্তু তারা পরিবেশ রক্ষার যুক্তি দিয়ে সেখান থেকে জ্বালানি আহরণ করতে চায় না’, যোগ করেন ট্রাম্প। 

ট্রাম্প বলেন, ‘যদিও স্টারমার আমার বন্ধুপ্রতীম, তবুও তিনি ন্যাটো প্রসঙ্গ ও ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি যথেষ্ঠ সমর্থন দেননি।’

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সেনাঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প-স্টারমারের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। 

ট্রাম্পের অভিযোগ, সাইপ্রাসের আরএএফ আকরোতিরি বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন দিতে অনেক বেশি সময় নিয়েছেন স্টারমার। 

‘তিনি (স্টারমার) বললেন, আমরা ওই দ্বীপ ব্যবহার করতে পারব না। বিষয়টি নজিরবিহীন ছিল’, যোগ করেন তিনি। 

রিপাবলিকান নেতা ব্যাখ্যা দেন, পরবর্তীতে রাজি হলেও পুরো বিষয়টি স্টারমারের জন্য নেতিবাচক ছিল। এটা তার বড় ক্ষতি করেছে। 

‘আমি তার প্রতি শুভ কামনা জানাই। কিন্তু সে দুইটি বড় সমস্যা তৈরি করেছে—জ্বালানি ও অভিবাসন। পাশাপাশি, অপরাধের মাত্রা তো আছেই। সে নিজের অনেক ক্ষতি করেছে। অনেক বড় ক্ষতি।’

স্টারমার গতকাল সোমবার ঘোষণা দেন, তিনি লেবার পার্টির নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবেন।

তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখবেন তিনি। 

বেশ কয়েক মাস ধরে দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে চাপের মুখে ছিলেন স্টারমার। বিশেষত, স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারান তিনি। 

স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র ও লেবার পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ অ্যান্ডি বার্নাম। 

সম্প্রতি এক উপনির্বাচনে জিতে পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছেন বার্নাম। এই ঘটনাই স্টারমারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। 

যুক্তরাজ্যে দলের নেতৃত্ব পেতে হলে পার্লামেন্টের সদস্যপদ থাকা বাধ্যতামূলক। 

সব কিছু ঠিক থাকলে গত দশ বছরে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বার্নাম।