জাপানে ভূমিকম্প: ক্যাট ক্যাফেতে আটকা পড়েছিল ২৫ বিড়াল, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অক্ষত উদ্ধার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে পৌঁছেছে। এর আগে মৃতের সংখ্যা ২৮ বলে জানানো হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্থানীয় এইয়ন শপিংমলে গ্যাস বিস্ফোরণ হলে সেটির বড় অংশ বিধ্বস্ত হয়। শপিংমল থেকে এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

ওই শপিংমলের ভেতরে আটকে পড়া ২৫টি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিড়ালগুলো একটি ‘ক্যাট ক্যাফে’ রেস্তোরাঁর ভেতর আটকা ছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাট ক্যাফেটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিড়াল উদ্ধারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মোমো, কোহাকু, ট্যাঙ্গো ও শ্যান্ডিসহ অন্যান্য বিড়ালগুলো কাশিমার এইয়ন শপিংমলের নিচতলায় অবস্থিত ক্যাট ক্যাফে মফ-এর ভেতর আটকা পড়ে।

ভূমিকম্পের পর শপিংমলটি খালি করা হয়।

পরে কর্মীরা বিড়ালগুলোকে বের করে আনতে ফিরে গেলে ভবনটিতে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হয়, গ্যাসের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

এরপর বিড়ালগুলোকে উদ্ধার না করেই কর্মীরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান বলে জানায় ক্যাফে কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে বুধবার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও শপিংমল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মফ-এর ব্যবস্থাপক ভবনটিতে প্রবেশ করেন এবং অক্ষত অবস্থায় ২৫টি বিড়ালকেই নিরাপদে উদ্ধার করেন।

একই দিন স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টায় বিড়ালগুলোকে নিরাপদে জাপানের হিরোশিমা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ক্যাট ক্যাফের আরেকটি শাখা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘কুমামোতো থেকে দীর্ঘ যাত্রায় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তবে পৌঁছানোর পর প্রতিটি বিড়ালের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছে।’

আরও জানানো হয়, বিড়ালগুলো ‘শান্ত ও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাচ্ছে।’

বিড়ালগুলোর অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার খবর নিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যম লাইভডোর নিউজের এক্স পোস্ট ৭৯ লাখ ভিউ পেয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে এক ইউজার লিখেছেন, ‘অনেকে বলেন মানুষের জীবন বাঁচানোকে প্রাধান্য দিতে হবে। কিন্তু মানুষের জীবন আর বিড়ালের জীবন—দুটোই সমান মূল্যবান... সবাই নিরাপদে আছে জেনে ভালো লাগছে।’

তবে জাপানের ক্যাট ক্যাফেগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এই ক্যাফেগুলোতে শুধু বিড়াল নয়, শজারু, ছোট আকারের শূকর থেকে শুরু করে আরও অনেক ধরনের প্রাণীকে আদর করার সুযোগ থাকে।

মফ ক্যাট ক্যাফের বিড়াল। ছবি: ওয়েবসাইট
মফ ক্যাট ক্যাফের বিড়াল। ছবি: ওয়েবসাইট

ইনস্টাগ্রামে আরেক ইউজার লিখেছেন, ‘আমি চাই বিড়ালগুলোকে যেন আর ওই ক্যাট ক্যাফেতে ফেরত পাঠানো না হোক। তাদের দেখভালের জন্য কোনো দত্তক পরিবার খুঁজে পাওয়া গেলে সেখানে তারা আদর-ভালোবাসায় নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারবে।’

অন্যদিকে, কেউ কেউ সমালোচনা করে বলেছেন, একই শপিংমলে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরও মানুষের প্রাণহানির চেয়ে বিড়ালগুলোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।