নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন মারা গেছেন। বন্যার পানির স্রোতে কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে এ বন্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত তুষার গলে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তের উভয় পাশে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। নেপালের কর্মকর্তারাও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘বিশাল’ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বিবিসিকে বলেন, সব নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল স্রোতে বন্যার পানি গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিব্বত থেকে নেপালে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদীর নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্যার কারণে ওই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক চীনা ব্যবসায়ী ইয়ে লিয়াং বিবিসিকে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের সাতটি পণ্যবাহী কনটেইনার ট্রাক ওই এলাকায় ছিল। এসব ট্রাকে কর্মরত সবাই নেপালের নাগরিক। বন্যার পর তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিব্বতের দিকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সিচুয়ান প্রদেশের বাসিন্দা গুয়ান দাওশুয়ান বিবিসিকে জানান, বুধবার সকালে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার স্ত্রী তিব্বতে সড়ক ও সেতু নির্মাণে নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
গুয়ান জানান, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নেপাল কর্তৃপক্ষ একটি হেলিকপ্টার পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে সেটি দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে পারছিল না।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নদীর তীরে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জরুরি বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেডক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে রাসুয়া জেলার দুটি পোস্ট থেকে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আরও কয়েক ডজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গত বছরও রাসুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ১৮ জন মারা গিয়েছিলেন। চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ভেঙে ওই বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।
নেপালের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এবারের দুর্যোগের মাত্রা গত বছরের বন্যার চেয়েও বেশি।