জার্মানির দুই রাজ্যে নির্বাচন, চাপ বাড়ছে চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের ওপর
জার্মানির দুটি রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নির্বাচনের ফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।
দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয় পাওয়ার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই নির্বাচনে সিডিইউয়ের ভোট অর্ধেকে নেমে আসে।
সিডিইউয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ম্যার্ৎসকে চ্যান্সেলর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জার্মানিতে জল্পনা রয়েছে।
দুই রাজ্যেই বামপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী দলগুলো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জনমত জরিপেও তার ইঙ্গিত মিলেছে।
বার্লিন ও মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়ায় পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ম্যার্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বড় ধরনের পরাজয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন ফল হলে চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্ৎসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠতে পারে।
বার্লিনে ক্ষমতাসীন সিডিইউর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছে বামপন্থী দল ডি লিংকে। মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়ার জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন এসপিডির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে রয়েছে এএফডি। তবে এসপিডি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্লিন: বামপন্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে ক্ষমতাসীন সিডিইউ
কেন্দ্রীয় সরকারের মতোই এসপিডির সঙ্গে জোট করে বার্লিন শাসন করছে সিডিইউ। দলটির মেয়র কাই ভেগনার সেই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবার সেই দুর্গে বামপন্থীরা হানা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বড় কয়েকটি জনমত জরিপে আলিফ আরালপের সমাজতান্ত্রিক দল লেফট পার্টি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ফলে রক্ষণশীল সিডিইউর সঙ্গে তার দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের মুখে রয়েছে তার দল।
তুর্কি বংশোদ্ভূত আলিফ জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের মেয়র উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানিই তার প্রেরণা।
জার্মানির ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টি ডি লিংকের সদস্য আলিফ সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসীদের রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে নজর কেড়েছেন।
তুরস্ক থেকে নির্বাসিত পরিবারের সন্তান তিনি। আলিফ জানান, তার পারিবারিক পটভূমিই সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে প্রভাবিত করেছে।
বার্লিনে বামপন্থী দলটির প্রতি সমর্থন বাড়লেও ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ডি লিংকে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
জার্মান ভোটাররা বেশ কিছুদিন ধরেই মূলধারার দলগুলোর বাইরে বিকল্প খুঁজছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আলিফের প্রার্থিতা জার্মানির রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রতিফলন।
মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়া: এএফডিকে ঠেকাতে মরিয়া এসপিডি
গত ২৮ বছর ধরে বিভিন্ন জোটসঙ্গীকে নিয়ে রাজ্যটি শাসন করছে এসপিডি। এখন রাজ্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জনপ্রিয় রাজ্যপ্রধান ও সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী মানুয়েলা শেভসিশ।
৫২ বছর বয়সী মানুয়েলা শেভসিশ বর্তমানে সমাজতান্ত্রিক লেফট পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রোববারের (২০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনের পরও ক্ষমতা তার হাতেই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী এএফডির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন শেভসিশ।
কিন্তু এই নির্বাচনে তিনি ‘দ্য উইমেন অ্যাগেইনস্ট ব্লু’ (নীলের বিরুদ্ধে নারী) স্লোগান নিয়ে প্রচার করেছেন। এখানে ‘নীল’ বলতে এএফডির রংকে বোঝানো হয়েছে।
নির্বাচনের ১০ দিন আগে এএফডির প্রার্থী লাইফ-এরিক হোমের সঙ্গে একটি টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়েছেন শেভসিশ। অনুষ্ঠানে কট্টর ডানপন্থী এএফডিকে তিনি ‘আমাদের দেশ, অর্থনীতি, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা এবং নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দল’ আখ্যা দেন।
সরাসরি হোমকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।’
অপরদিকে, এই রাজ্যে সিডিইউর সমর্থন সাম্প্রতিক জরিপে ৭ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।
অনেক ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন
দুটি রাজ্যের অনেক ভোটারই এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। ঠিক কোন প্রার্থী বা দলকে ভোট দেবেন, তা এখনো ঠিক করতে পারেননি তারা।
জার্মান পাবলিক ব্রডকাস্টার জেডডিএফের ‘পলিটব্যারোমিটার এক্সট্রা’ জরিপের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেকলেবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পমেরানিয়ার ২১ শতাংশ এবং বার্লিনের ২৩ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন।
