ইরানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক ট্রাম্প, কমলো তেলের দাম

স্টার অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে নিউইয়র্কে। এই সম্মেলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

এমন বার্তাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরান-ওয়াশিংটন বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৯১ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮৯ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমে আসে।

ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই দুই ধরনের তেলের দাম একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে গণমাধ্যমকে ট্রাম্প জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে তিন ঘণ্টার বৈঠকটি ‘খুবই ভালো’ ও ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে।

‘খুব শিগগির’ দুই পক্ষ আবারও বৈঠকে বসবে বলেও তিনি জানান।

এই বার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কড়া বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান প্রসঙ্গে তিনি একটি ‘বড় সিদ্ধান্তের’ মুখোমুখি হয়েছেন। তার সামনে এখন দুটি বিকল্প। তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন অথবা দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত করতে পারেন।

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরুর প্রায় সাত মাস পরও দুই পক্ষ অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

অপরদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ওই সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর দিয়েও জ্বালানি রপ্তানি কমেছে।

কুইনটেক্স ইন্টেল নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা স্টিফেন ইনেস এএফপিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তিন ঘণ্টার বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে এখনো অনেক দেরি। তবে এ ধরনের অগ্রগতি জ্বালানি বাজারকে এমন বার্তা দেয় যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রকৃত ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান আছে। এতে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে।

এর আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জয়ী হওয়ার ‘সঙ্গে সঙ্গেই’ তেলের দাম কমে আসবে।

তেলের দাম কমার মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম আবার শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই তেল রপ্তানি পথটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

রিয়াদ চলতি মাসে জানিয়েছিল, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন হামলার কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ করতে হয়েছিল। ইরানের হরমুজ প্রণালির অবরোধ এড়িয়ে তেল রপ্তানির জন্য এই পাইপলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে আবারও এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি শুরু করতে চায়।

তবে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে জানিয়েছে, তারা শিগগিরই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল নিতে পারবে।

তবে ইউরোপের ক্রেতাদের বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে তাদের জন্য কোনো তেল বরাদ্দ নেই।

ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়।