এপস্টিন সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার: পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু
এপস্টিন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্রিটেনের থেমস ভ্যালি পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার গ্রেপ্তার ও তল্লাশি পরোয়ানা আইনসম্মত ছিল কি না, তা চ্যালেঞ্জ করে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেছেন অ্যান্ড্রু।
গত ফেব্রুয়ারিতে নিজের ৬৬তম জন্মদিনে ব্রিটেনের নরফোকের মার্শ ফার্ম থেকে গ্রেপ্তার হন অ্যান্ড্রু। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের সন্দেহে প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে তদন্ত চলাকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মার্শ ফার্ম ও উইন্ডসরের রয়্যাল লজে কয়েক দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে নথি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশের এ কার্যক্রম নিয়ে অ্যান্ড্রু হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন। হাইকোর্টের এক বিচারক আবেদন আমলেও নিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের আগের বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কিত কিছু নথি প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে হাইকোর্টে রুদ্ধদ্বার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের পেছনে ছিল এপস্টিন ফাইলে প্রকাশিত তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত থাকাকালে তিনি এপস্টিনকে হংকং, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও চীন সফরের সরকারি প্রতিবেদন এবং আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি গোপনীয় ব্রিফিং পাঠিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন ফাইলের সম্পাদনাহীন নথিপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি পেতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধের জবাব পেতেই এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
২০১৯ সালে বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন, ২০১০ সালের ডিসেম্বরের শুরুতেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে পরে প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, ওই বছরের বড়দিনের আগের দিনও তিনি এপস্টিনকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।