ভারতে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ১৬ মাওবাদী নিহত
ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৬ জন মাওবাদী বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও ছিলেন বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
সাম্প্রতিক কালে ভারতের ওই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনে উঠেপড়ে লেগেছে কর্তৃপক্ষ। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একের পর এক সেনা অভিযান চালানো হচ্ছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গেরিলা বিদ্রোহে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের দাবি, তারা ভারতের এসব প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত।
'নকশাল' নামেও পরিচিত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নেমেছে নয়াদিল্লি।
আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি গ্রামে নকশাল বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়।
নয়াদিল্লি চলতি বছরের মার্চের মধ্যে পাকাপাকিভাবে এই বিদ্রোহের আগুনে পানি ঢালার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।
২০২৪ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর হাতে ৫০০ জনেরও বেশি মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার অন্তর্ভুক্ত আছেন বলে সরকারের দাবি।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিশ্চিত করেন, মাওবাদীদের সঙ্গে সর্বশেষ বন্দুকযুদ্ধটি হয়েছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পশ্চিম সিংভূম জেলায়।
অমিত শাহ জানান, 'নিহতদের মধ্যে নকশাল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পতিরাম মাঝি অন্যতম।'
তিনি আরও জানান, কুখ্যাত এই বিদ্রোহী নেতাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
'আমরা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলে অঙ্গীকারবদ্ধ। কয়েক দশক ধরে এটা ভীতি ও আতঙ্কের অপর নাম হয়ে উঠেছে', যোগ করেন তিনি।
তিনি ঘোষণা দেন, 'আমি আরও একবার নকশালবাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা সহিংসতা, আতংক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত এই মতবাদ থেকে সরে মূলধারার উন্নয়ন ও ভরসার পথে আসুন।'
এক পর্যায়ে ভারতের প্রায় এক তৃতীয়াংশজুড়ে নকশাল বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০০০ সালের আশেপাশে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার যোদ্ধা এই বিদ্রোহে জড়িত ছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিদ্রোহের আগুন ফিকে হয়ে এসেছে।

