গেরুয়ায় বিলীন তেরঙা ভারত

By স্টার অনলাইন ডেস্ক

ঘটনাটা গত ৬ জানুয়ারির। ঘটেছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের জম্মুতে। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—জম্মুর বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের প্রথম ব্যাচে ৫০ জনকে যোগ্যতা অনুসারে ভর্তি করানো হয়। সেই ৫০ শিক্ষার্থীর ৪২ জনই ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান।

আরও জানা যায়, হিন্দুত্ববাদীদের দাবি—হিন্দুদের দানের টাকায় পরিচালিত ওই কলেজে কোনো মুসলমান শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো যাবে না। অবশেষে, জম্মুর মেডিকেল কলেজটি বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ জানুয়ারি আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে—'কোর্স বাতিলে উল্লাস নৃত্য হিন্দুত্ববাদীদের'। পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে জম্মুতে যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে বিজেপির জম্মু-কাশ্মীর শাখার মহিলা মোর্চার পাশাপাশি জম্মু চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অরুণ গুপ্ত-সহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতাও অংশ নেন।

দৈনিকটি এক মতামত প্রতিবেদনে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদে জম্মুর মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাটিকে 'অ-সুস্থ' বলে মন্তব্য করে।

বিজেপি-শাসিত ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়নের এমনসব ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে বলেও মন্তব্য সংবাদমাধ্যমগুলোর। আরও বলা হয়—তেরঙা ভারতে গেরুয়াবাদীদের এমন আচরণ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিত্যদিনের আলোচনা।

ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বেড়েছে

ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া হেইট ল্যাবের (আইএইচএল) হিসাবে—গত বছর বা ২০২৫ সালে ভারতে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩১৮টি। এর আগের বছর তথা ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৫টি এবং ২০২৩ সালে তা ছিল ৬৬৮টি।

ভারতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সাধারণত দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোয় বেশি দেওয়া হয়েছে বলেও আইএইচএল প্রতিবেদনে জানানো হয়।

আইএইচএল-এর তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে—২০২৫ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

Damaged church in India
ভুবনেশ্বরের গির্জায় হামলার পরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে—রাজনৈতিক জনসভা, ধর্মীয় শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

আইএইচএলের ভাষ্য: ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩১৮টি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে ১ হাজার ১৬৪টি দেওয়া হয়েছিল বিজেপি-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্র-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোয়।

ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস আইএইচএলের প্রতিবেদন নিয়ে রয়টার্সের কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি উল্লেখ করে সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—মোদি ও তার দল কোনো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি: খাদ্য নিরাপত্তা ও সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি সব সম্প্রদায়কে সুবিধা দিচ্ছে।

বিজেপির মতে, আইএইচএল ভারত নিয়ে পক্ষপাতমূলক চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে, আইএইচএল বলছে—তারা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য চিহ্নিত করতে জাতিসংঘের সংজ্ঞা মেনে চলে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে সংখ্যালঘু নিপীড়ন বেড়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ধর্ম-পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইনের কথা বলা হয়। জাতিসংঘ এই আইনকে 'মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক' বলে আখ্যা দিয়েছে।

এ ছাড়াও, ভারতের ধর্মান্তরবিরোধী আইনকে বিশ্বাসের স্বাধীনতাহরণ ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দেওয়া ও দেশটিতে মুসলমানদের সম্পত্তি ধ্বংস করার কথাও সংখ্যালঘু নিপীড়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এসব সংবাদ এমন সময়ে এসেছে যখন ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য ভারত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে (ইউএনএইচসিআর) নির্বাচিত হয়েছে।

সমাজমাধ্যম এক্স-এ এমন বিজয়ের সুসংবাদ দিয়ে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেছেন, 'মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সুদৃঢ় দায়বদ্ধতার কারণে ভারত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়েছে।' 

এই নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভারত বলেছিল, তারা বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকারের মূল্যবোধ তুলে ধরতে কাজ করছে।

অথচ বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার কথা বলছে বিরোধীরা।

গত ২৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপির এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—'বড়দিনে আসাম, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লিতে বজরং দল ও সমমনাদের হামলা; সারাদেশে ক্ষোভ'।

প্রতিবেদনে বলা হয়—বড়দিনে রাজ্যজুড়ে হামলায় বজরং দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, মামলা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিরোধী নেতা শশী থারুর এর নিন্দা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে—হিন্দুত্ববাদীরা আসামের নালবাড়ি জেলায় মিশনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট মেরিস ইংলিশ স্কুলে হামলা চালিয়ে বড়দিনের আয়োজন পণ্ড করে দেয়। হামলাকারীরা নিজেদের বজরং দলের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা 'জয় শ্রীরাম' ও 'জয় হিন্দুরাষ্ট্র' স্লোগান তোলে।

jay_sri_ram.jpg
জয় শ্রী রাম শ্লোগানে মেতে ওঠা ভারতীয় নাগরিক। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে ভারত

২০২৪ সালে ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়—নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রায়শই মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন।

তিনি এসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য, শত্রুতা ও সংঘাত উসকে দেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

এ প্রসঙ্গে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে কয়েকটি রাজ্যে বেশ কয়েকজন মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যার পাশাপাশি গরু পাচারের অভিযোগ মুসলমান ভেবে এক হিন্দু তরুণকে হত্যার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু ছাড়াও জাতিগত সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীদের ওপরও হামলার কথা এতে বলা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই মুসলমানদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মস্থান ভেঙে দিয়েছে। একে 'বুলডোজার জাস্টিস' বলে প্রচার করা হচ্ছে।

india_map.jpg
মানচিত্রে ভারতে বিজেপি ও এনডিএ জোট শাসিত রাজ্য। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের মান্দলা জেলায় ১১ মুসলমানের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির সুপ্রিমকোর্ট এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছে। কারো বাড়ি ভেঙে দেওয়ার আগে যথাযথ নিয়ম মেনে চলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে খ্রিষ্টানরা হিন্দুত্ববাদীদের হামলার আতঙ্কে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে 'জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত' হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

ভারতে দলিতদের ওপর বহু বছর ধরে জাতপাত সংক্রান্ত সহিংসতা চলানো হচ্ছে উল্লেখ করে এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, উত্তরপ্রদেশে তিন ব্যক্তি এক দলিত তরুণকে প্রস্রাব খেতে বাধ্য করে। একই প্রদেশে দলিত নারীরা উচ্চবর্ণের পুরুষদের হাতে যৌন হেনস্তার চরম ঝুঁকিতে থাকে।

এ ছাড়াও, মধ্যপ্রদেশে রেলওয়ে পুলিশ এক দলিত নারী ও তার কিশোর নাতিকে পেটায় বলে মানবাধিকার সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিজেপি-শাসিত ছত্তিশগড় রাজ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রায়শই মাওবাদী বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে বিচার ছাড়াই হত্যা করা হয়। সেখানে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ওপরও সরকার খড়গহস্ত। সেসব সংগঠনকে 'মাওবাদীদের সমর্থক' হিসেবে দেখে স্থানীয় প্রশাসন।

বিজেপি-শাসিত মণিপুর রাজ্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কারণে সেখানকার হিন্দু-খ্রিষ্টান দাঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

জাতিসংঘ ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীদের ওপর হামলা ও তাদের প্রতি বৈষম্যের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়।

২০২৪ সালে ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (এআই) জানায়—ভারতে জাতীয় সংস্থাগুলোকে সুশীল সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়—আইন-বহির্ভূত বিচার ব্যবস্থা হিসেবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া ঘটনা ঘটেছে। নিজ দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের বিদেশ ভ্রমণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে তাদের ভারতে আসতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

ভারতে বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজেপির 'মুসলিমভীতি'

পূর্ব থেকে পশ্চিম ও উত্তর থেকে দক্ষিণ—ভারতের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় বিজেপিপন্থি গেরুয়া রঙের আধিপত্য। পশ্চিমে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী গুজরাট রাজ্য থেকে পুবে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ড পর্যন্ত এবং উত্তরে হরিয়ানা থেকে শুরু করে দক্ষিণে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত বিজেপির জয়জয়কার।

ভারতের ২৮ রাজ্যের মধ্যে ২১টিতে বিজেপি-জোট ক্ষমতাসীন। তবুও হিন্দুত্ববাদীরা বিশেষ করে আরএসএস, বিজেপি ও সমমনা দলগুলো গত কয়েক দশক ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে ক্রমাগত মুসলিমভীতি জাগিয়ে তুলছে। এ দলগুলো ভাষ্য: 'ভারতে হিন্দুর জীবন হুমকিতে পড়েছে'।

rss_-reuters.jpg
আরএসএসের সদস্যদের লাঠি মিছিল। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়—নাগরিকত্ব প্রমাণের নামে মোদি সরকার দেশটিতে মূলত সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাজেহাল করছে।

দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে—১৯৯২ সালে গায়ের জোরে অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা দেশটিতে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা ব্যাপক বাড়িয়ে দিয়েছে। হিন্দুত্ববাদীরা সে দেশের আরও ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়ে চলেছে।

সম্প্রতি, কাশীর জ্ঞানব্যাপী মসজিদ ও আজমিরের দরগাহসহ মুসলিমদের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

এ ছাড়াও, বাবরি মসজিদ ভাঙার ১০ বছর পর অর্থাৎ ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিমবিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গার সময় থেকে হিন্দুত্ববাদীরা ভারতজুড়ে নানা 'অজুহাতে' মুসলিমদের হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেন অনেক বিশ্লেষক।

youth_atop_babri_mosque_afp.jpg
বাবরি মসজিদের ওপর চড়াও হয়েছে ভারতীয় তরুণরা। ফাইল ছবি: এএফপি

২০১১ সালের পর ভারত সরকার জনগণনা না করায় সেই হিসাবে ভারতে হিন্দুর সংখ্যা ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ, মুসলিম ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ও খ্রিষ্টান ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়াস ডাটাবেজের তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের হিসাব অনুসারে—ভারতে হিন্দু ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ, মুসলিম ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, খ্রিষ্টান ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবুও ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের আশঙ্কা তাদের দেশে হিন্দুরা ক্রমশ 'সংখ্যালঘু' হয়ে পড়ছে।

চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে 'মুসলিম' ইস্যু প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। সেই রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে 'মুসলিমপ্রধান' হয়ে উঠছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনসংখ্যা ২৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। হিন্দু জনসংখ্যা ৭০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, ২০২৫ সালে মুসলিমদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হতে পারে।

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে আসামে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ শতাংশ। সম্প্রতি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—বিজেপি-শাসিত আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার দাবি, ২০৪১ সালে তার রাজ্যে মুসলমানদের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হয়ে যেতে পারে।

ওমর খালিদ-শারজিল ইমাম ও কাঠগড়ায় ভারত

গত ৫ জানুয়ারি জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিমকোর্ট সাবেক ছাত্রনেতা ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক হয়ে তারা কোনো বিচার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৫ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।

মার্কিন সরকারের ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-এর ওয়েবসাইটে এই দুই ভারতীয় ছাত্রনেতা সম্পর্কে বলা হয়েছে—ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের প্রতিবাদ করায় ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে আটক করা হয়েছে।

গত ৬ জানুয়ারি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়—ওমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে আটক রাখার ঘটনা গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি ও বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ওমর খালিদের আটকাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিজেপি-সমালোচকদের অনেকের মন্তব্য, মোদি সরকার যেন তেরঙা ভারতকে গেরুয়া চাদরে ঢেকে ফেলতে চায়। বিজেপি নেতারা এখন প্রকাশ্যে ভারতের বহুত্ববাদকে বিলীন করে সেখানে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন।

তবে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে এককভাবে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা তা ভবিষ্যৎ-ই বলতে পারে।